বুড়িগঙ্গার ৬০ শতাংশ পাড় শিল্পপতিদের দখলে

0
42

Burigangha_suchainবুড়িগঙ্গা নদীর ৬০ শতাংশ পাড় শিল্পপতিরা দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিটিসহ ১৭ সংগঠনের নেতারা।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অবিলম্বে বুড়িগঙ্গা নদীর সকল দখলদার উচ্ছেদ ও সকল ট্যানারী অপসারণ’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা জানান, শিল্পপতিদের কারখানার বর্জ্য অনবরত নদীতে প্রবেশ করছে। এমনকি হাজারীবাগ ট্যানারীর সকল বর্জ্যও বুড়িগঙ্গায় যাচ্ছে।

এ ছাড়া মানববন্ধনে বক্তারা, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এই দুইটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা দূষণে ৩০ শতাংশ দায়ী বলে দাবি করেন।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ ও দখলের জন্য নদী পাড়ের প্রভাবশালী শিল্পপতিরাই দায়ী। তারা ধীরে ধীরে নদীকে ধ্বংস করছে। বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে এখনই নদী পাড়ের সকল দখল উচ্ছেদ ও সকল ট্যানারী অপসারণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, নদী পাড়ের কারখানাগুলোর বর্জ্য শোধন যন্ত্র লাগানো হলে কারখানার ময়লা আর নদীতে প্রবেশ করতো না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও মালিকরা তা মানছে না।

দখলদারদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে বুড়িগঙ্গার স্থাপনা সরাতে উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার ২৯ দখলদারকে নোটিশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা তা সরানোর কোনো  উদ্যোগ নেয়নি।

অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হাজারীবাগ থেকে সকল ট্যানারী সাভারে স্থানান্তরে নিদের্শ দেওয়া হলেও এক্ষেত্রেও কারখানা মালিকরা নিরব।

বুড়িগঙ্গার পানিতে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, সালফিউরিক এসিড, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, মাংগানিজ, লোহা, তামা, দস্তা, আর্সেনিক, ব্রোমিন, সীসা, নিকেল, ক্যাডমিয়াম, রোবেডিয়ামসহ প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান মিলে পানি দূষিত করছে বলে জনান তারা।

 বক্তারা বলেন, প্রায় ১৫বছর ধরে বিভিন্ন কমিটি, টাস্কফোর্স গঠন, সুপারিশ, উচ্ছেদ করেও সরকার বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে পারেনি।

এ সময় নতুন করে বুড়িঙ্গা বাঁচাতে নদী কমিশন গঠন ও বুড়িঙ্গা দখল মুক্ত করাসহ নয় দফা দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বাপা সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল মতিন, গ্রীণ ভয়েস সমন্বয়ক আলমগীর কবির, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার পরিচালক শরীফ জামিল, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস, সুন্দর জীবন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

জেইউ/