শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিমসটেক সম্মেলন

0
43

LOGO-for-BIMSTECআগামি শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশের সংগঠন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল আ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলন। মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে চার দিন ব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে ঢাকায় সংস্থাটির সচিবালয় স্থাপন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আঞ্চলিক জোট গঠনের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্য ১৯৯৭ সালে বিসটেক গঠন করে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান যোগ দিলে নাম পরিবর্তন করে ‘বিমসটেক’ করা হয়। বিমসটেকে রূপান্তরিত হওয়ার পর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ১৪টি বিষয় নির্ধারণ করা হয়।

আঞ্চলিক জোটটির প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ২০০৪ সালে ব্যাংককে এবং দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন ২০০৮ সালে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সম্মেলন ২০১২ সালে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে দেশটির সরকার সে সম্মেলন পিছিয়ে দেয়। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পরে এখন বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তৃতীয় বিমসটেক সম্মেলনের প্রথম দিন ১ মার্চ প্রস্তুতিসভা, ২ মার্চ সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে সভা, ৩ মার্চ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন ও শেষ দিন ৪ মার্চ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিমসটেক সম্মেলনে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ বিভিন্ন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে বংলাদেশ।

এছাড়া তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এই তিনটি চুক্তির মধ্যে রয়েছে ঢাকায় বিমসটেকের সচিবালয় স্থাপন, ভারতের দিল্লীতে জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক কার্যালয় ও ভুটানের থিম্পুতে সাংস্কৃতিক কার্যালয় স্থাপন। ইতোমধ্যে এ বিষয়গুলো মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও  সম্মেলনের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেও দ্বিপক্ষীয় একাধিক বৈঠক হতে পারে। এর মধ্যে একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অংশ নেবেন।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং গতকাল নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অমীমাংসিত সব বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হবে। পাশাপাশি ঢাকায় বিমসটেকের সচিবালয় স্থাপনে বাংলাদেশকে সহায়তার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, সচিবালয় স্থাপনের ৩২ শতাংশ খরচ বহন করবে ভারত।

বিমসটেকের সকল সদস্য দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার এ সম্মেলনে অংশ নেয়াটা নিশ্চিত নয়। তবে সম্মেলনে থাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।