পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে ৭৭ কোটি টাকা দেবে ব্লুমবার্গ ফাউন্ডেশন

0
82

swimবাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে কাজ করতে ৭৭ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। মাইকেল ব্লুমবার্গ ফাউন্ডেশন নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে এ্‌ই অর্থে দুই বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায়  ৮০ হাজার শিশুদের দেখভালসহ সাঁতারের মতো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সম্প্রতি বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশংখাজনকভাবে বাড়ছে। তাদের হিসেব অনুসারে প্রতিবছরে দেশে ১২ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ হিসেবে গড়ে প্রতিদিন মারা যায় ৩২ জন শিশু।

এই অবস্থায় প্রাথমিকভাবে যেসব অঞ্চলে এই মৃত্যুর হার বেশি সেসব অঞ্চলকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা ডে কেয়ার ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর মাধ্যমে এ কার্যক্রম চালাবে। যার মাধ্যমে দুই বছর মেয়াদী প্রকল্পে ৮০ হাজার শিশুদের দেখাশোনাসহ  প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় জানানো হয়, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার শহর এলাকার চেয়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশি। বাড়ির পাশেই ছোট ছোট ডোবা নালায় বেশি মৃত্যুবরণ করে শিশুরা। দাতা প্রতিষ্ঠানটির একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কেলি হেনিং জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা আসলেই হৃদয় বিদারক। তার মতে, কিছু পদক্ষেপ নিলেই এই মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।News29042007_1372

কেলি হেনিং বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশে আমরা শিশুদের  সাঁতারে দক্ষ করাসহ পরিবারের বয়স্করা যখন কাজে যান তখন তাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা করতে চাই।

এর আগে  ২০০৫ সালে বাংলাদেশ হেলথ এ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে (বিএইচআইএস) নামের একটি সংগঠন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় অন্য যে কোনো দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার চেয়ে পানিতে ডুবে শিশুকিশোর মারা যাওয়ার সংখ্যা অনেক বেশী।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১৮ হাজার শিশুকিশোরের মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। তবে এরমধ্যে ৫ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুকিশোরের মৃত্যু হয় শুধুমাত্র সাঁতার না জানার কারণে।

সবমিলিয়ে প্রতিবছর পানিতে ডুবে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ২২ হাজার। পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার অন্যতম ব্যবস্থা হচ্ছে সকল শিশুকে ৫ বছর বয়স থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সাঁতার শেখানো।

একটি বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং রির্সাচ সেন্টার অব বাংলাদেশ (আইডিআরসিবি) তাদের তথ্যে জানিয়েছে শুধুমাত্র সাঁতার শেখার মাধ্যমেই ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। এরপর অপর একটি সংগঠন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড রির্সাচ অব বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরোধে কাজ শুরু করে।

তারা ২০০৬ সালে ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলা এবং শেরপুর জেলার সদর উপজেলায় উপজেলা প্রিসাইজ নামের একটি সাঁতার শেখার প্রকল্প চালু করে। প্রকল্প চালু করার পর দেখা গেছে যে সব এলাকায় প্রকল্পটি চালু রয়েছে সেসব এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়ার হার ৩০ শতাংশেরও বেশী কমে গেছে। বেসরকারি এসব সংগঠনের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলা বা উপজেলায় সীমাবদ্ধ। ফলে পুরো দেশের লাখ লাখ শিশু বঞ্চিত হচ্ছে জীবন বাঁচানোর অন্যতম শিক্ষা সাঁতার শিক্ষা থেকে।

এস রহমান/