মেলায় সাজের বেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

0
84
boi mela

boi melaমেলায় সাজের বেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়।সবাই দলে দলে মেলায় আসছে শেষ প্রহরে।কারণ আগামিকাল শেষ হতে যাচ্ছে বাঙালীর গর্ব অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এজন্য মেলার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ভিন্ন।

বহস্পতিবার বিকেল ৩টা বাজার সাথে সাথে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঠে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ মেলায়  ঢুকছেন আবার কেউ বের হচ্ছেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

লেখক-পাঠকের পদচারণায় যে মেলা প্রাঙ্গন ছিল সরগরম আর একদিন পর সেখানে থাকবে না কোনো কোলাহল। থাকবে না বইয়ের কোনো স্টল, আসবে না পাঠকের ঢল। লেখকরা সবচেয়ে বেশি ব্যথিত। তাদের প্রাণের স্পন্দন এই বইমেলা আর সবাইকে নিয়ে দেওয়া হবে না আগামি বছর ছাড়া।

বাংলা একাডেমির মাহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, এবারের মেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হওয়ায়, সময় কম থাকায় কিছুটা ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। আর এবারের সব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামি বছর মেলা আরো ভাল হবে আমা করছি।

মেলায় শেষ হবে আগামিকাল একথা ভাবলে আমারও খারাপ লাগে। তারপরও সবকিছুর একটা নিয়ম আছে আর সেই নিয়মের ধারাবাহিকতায় কাল শেষ হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সব কিছু ছাড়িয়ে এ বছরের মেলা অন্য বারের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কবি লুৎফর রহমান রিটন বলেন, বইমেলা লেখকদের প্রাণ কেন্দ্র। এখানে না এলে আমাদের ভাল লাগে না। তাই প্রতিদিন বিকেল হলে চলে আসি বই মেলায়। আর আড্ডা দেই আমার লেখকদের সাথে।

তিনি  বলেন, আমার হৃদয়ে বাজে বেদনার সুর। মেলা কাল শেষ এ কথা মনে হলে বুকের ভিতর যেন এক অজানা অতৃপ্তি উকি মারে।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি বলেন, বইমেলা আমাদের প্রকাশকদের কাছে শুধু ব্যবসা নয়। এটাকে আমরা আমাদের ভাষা শহীদের সম্মানের প্রতীক মনে করি।

তিনি বলেন, এবারের মেলা সোহরাওয়ার্দীতে হওয়ায় আমরা যেভাবে সাচ্ছন্দে স্টল নিয়ে বেচা-বিক্রি করতে পারছি তেমনি পাঠকরাও কোনো রকম ভীড় ছাড়াই ঘুরে ঘুরে বই কিনতে পারছেন। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলা অনেক ভাল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই প্রকাশক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংর্ঘষ বিভাগের ছাত্র মো. তামিম ইকবাল বলেন, প্রতিবার মেলা আসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতীক নিয়ে। মেলায় আসলে সেই শহীদের ছবি দেখলে শাণিত হয় দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি ভালবাসা।

এসএস.