মন্ত্রী দিলেন বিদেশ থেকে ঋণ আনার পরামর্শ !

0
72

FBCCIদেশের ব্যাংকিং খাতের কথা বিবেচনা না করেই ব্যবসায়ীদের বিদেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল। বাংলাদেশের তুলনায় বিদেশের ব্যাংকগুলোতে সুদ হার কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের এ পরামর্শ দেন।

বৃহস্পতিবার ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মিলনায়তনে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সব সময়ই বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া বিরোধীতা করেন। তাদের মতে দেশের ব্যংকগুলোতে সুদের হার কমিয়ে ব্যাংকের স্প্রেডও কমাতে হবে। তা না হলে কমে যাবে ঋণ প্রবৃদ্ধি। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ঋণ প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ। আগের বছর এটা ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত ছিল ৭১ শতাংশের কাছাকাছি।

এই অবস্থায় বিদেশি ঋণ যখন ফেরত দানের সময় হবে, তখন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে। কারণ এ ঋণের কিস্তি স্থানীয় মুদ্রায় নয়, বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, স্থানীয় ব্যাংকের ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার মাধ্যমে এ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের এই বিশ্লেষণের বিপরীতে মন্ত্রীর এমন বক্তব্য তাই বড় প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের সুদের হার অনেক বেশি। কোথাও কোথাও এ সুদের হার ১৭ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হয়। এ সুদের হার কমালে ব্যবসায়িরা দেশেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

এফবিবিসিসিআইএর এই পরিচালকের কথার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী তাদের বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, দেশে ব্যাংক সুদের হার বেশি হয়ে থাকলে বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে আসেন। বিদেশ থেকে আনলে কম সুদে ঋণ আনা যাবে।

প্রসঙ্গত দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সুদ হার ১৭ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত। এর সঙ্গে যোগ হয় আরও ২ থেকে ৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জ। এছাড়া মেয়াদপূর্তির আগে ঋণ সমন্বয় করতে চাইলে কোনো কোনো ব্যাংক এ বাবদ অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ শতাংশ চার্জ আদায় করছে। যার ফলে সামগ্রিকভাবে উদ্যোক্তাদের ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হচ্ছে।

অপরদিকে বিশ্বব্যাংকের তথ্য থেকে জানা গেছে, প্রতিবেশী ভারতে এ সুদ হার ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চীনে এ হার ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, জাপানে ১দশমিক ৩৫ শতাংশ, তাইওয়ানে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও মালয়েশিয়ায় ৫ শতাংশ। এছাড়া থাইল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের ওপর সুদ চার্জ করা হয় ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ১২ দশমিক০১ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও ভুটানে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।

মতবিনিময় সভায় বিগত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন সূচকের অগ্রগতি তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের রাজস্ব আয়, ব্যক্তিগত আয়কর আদায়’ এডিপির আকারসহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। আর এজন্য ব্যবসায়ীদের অনেক বেশি ভুমিকা রয়েছে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সচিব মিয়া সফিকুল ইসলাম ও হেদায়েত উল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রথম সভাপতি মনোয়ারা হাকিম, সহ সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন সহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।

এইচকেবি/