নৈতিকতার অভাবেই ব্যাংকে দুর্নীতি হয়: গভর্নর

0
53
green banking
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান

bb governerব্যাংকারদের মধ্যে নৈতিকতা না থাকার কারণে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বুধবার রাতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এ ‘বিআইবিএম ডে-২০১৪’ ও ‘ঢাকা ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে তা ব্যাংকারদের অনৈতিকতার জন্যই হয়েছে। এজন্য ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা খুবই জরুরি। ব্যাংকিং খাতকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে ব্যাংকারদের নৈতিক উচ্চতায় থাকতে হবে বলে তিনি উ্ল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাবনাময় জাতি হিসেবে যদি আমরা নিজেদের দেখতে চাই তাহলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর এ শিক্ষা হতে হবে অবশ্যই নৈতিক শিক্ষা।

অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ. আ. ম. স আরেফিন সিদ্দিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডীন ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম এর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার সুযোগ হলো সব চেয়ে বড় সুযোগ। শিক্ষাই হলো জীবন। কিন্তু এই শিক্ষায় যদি নৈতিকতা না থাকে তাহলে সেই শিক্ষা কোন কাজে লাগে না। যার মাঝে বিন্দুমাত্র শিক্ষার আলো আছে তার মধ্যে অন্যায়, দুর্নীতি থাকতে পারে না। যারা দুর্নীতি করেন তারা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, সব শিক্ষারই একটা পেশাগত উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু মানবতার সেবা করার মত শিক্ষাই হলো আসল শিক্ষা। এজন্য মূল শিক্ষার পাশাপাশি মানবতার শিক্ষাও মানুষের মধ্যে থাকতে হবে। আর মানবতার শিক্ষা থাকলে দেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিআইবিএম থেকে যারা শিক্ষা নিচ্ছেন তারা এ ধরণের শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন এবং মানবতার সেবা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের আওতায় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চালু করা হচ্ছে। এর ফলে আমাদের শিক্ষার্থীদের আর আমেরিকান, বৃটিশদের বই পড়ে দেশের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে না। তারা আমাদের দেশের সমস্যা নিয়েই গবেষণা করে তা সমাধানের চেষ্টা করতে পারবে বলে তিনি জানান। এখান থেকে যারা গবেষণা করে ভাল করবেন তাদের ডক্টরেট ডিগ্রিও প্রদান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।