লভ্যাংশ ঘোষণায়ও স্বস্তি নেই বিনিয়োগকারীদের

0
50

Frustationডিসেম্বরে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু হয়েছে। কয়েকটি কোম্পানি এরই মাঝে লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তাতে বিনিয়োগকারীরা আনন্দের পরিবর্তে অস্বস্তিতে পড়েছে। কারণ লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারের দর পড়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ কোম্পানির।

মঙ্গলবার তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এগুলো হচ্ছে- ট্রাস্ট ব্যাংক, বিএসআরএম ও সিনোবাংলা। এর মধ্য সিনোবাংলা তুলনামূলক দূর্বল মৌলের। বুধবার এটি ছাড়া বাকী দুটিরই শেয়ারের দাম কমে যায়। শুধু তাই নয়, এদিন সর্বোচ্চ দর হারানো ১০ কোম্পানির তালিকায় স্থান হয় এদের।

বুধবার প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিএসআরএম স্টীল ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। গত বছর কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৫০ পয়সা আয় করে (ইপিএস)। তা সত্ত্বেও পরদিন শেয়ারের দর কমেছে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে বিএসআরএম স্টিলের শেয়ার দর ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে দর হারানোতে শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে। এদিন কোম্পানির সর্বশেষ শেয়ার দর ছিল ৭২ টাকা ২০ পয়সা। আগের দিন এ শেয়ারের দাম ছিল ৭৪ টাকা ৫০ পয়সা।

ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড বুধবার  বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।তারপরও ব্যাংকটির শেয়ার বৃহস্পতিবার লুজারে নেমে এসেছে।

এদিন ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর কমেছে ব্যাংকটির। আজ কোম্পানির সর্বশেষ শেয়ার দর ছিল ৭২ টাকা ২০ পয়সা। কোম্পানির ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ শেয়ার ৯৯৫ বার লেনদেন হয়।

লভ্যাংশের পর শেয়ারে দর পরে যাওয়ার ঘটনার প্রভাব অন্যান্য শেয়ারের উপরও পড়ে। বিশেষ করে এক/দু’দিনের মধ্য লভ্যাংশ ঘোষণার কথা রয়েছে এমন শেয়ারের দাম কমে যায়। বুধবার  সন্ধ্যায় প্রকৌশল খাতের কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের লভ্যাংশ করা হয়। কিন্তু আগের দু’টি কোম্পানির শেয়ারের দর পড়ে যাওয়ায় স্নায়ুর চাপে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে এদিন সিঙ্গারের শেয়ারের দাম ৫ টাকা ৬০ পয়সা বা ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে যায়। বুধবার কোম্পানির সর্বশেষ শেয়ার দর ছিল ২২৮ টাকা। আগের দিন এর শেষ দর ছিল ২৩৫ টাকা। সেদিন সন্ধ্যায় ১২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটি।

বাজারের এ আচরণে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যারা লভ্যাংশের আশায় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ধরে রেখেছেন, তাদের ভয় এমন ধারা চললে তারা না আবার লোকসানে পড়ে যান। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজারের এ আচরণ খুবই সাময়িক। লভ্যাংশ খুব আকর্ষণীয় না হলেও যদি কোম্পানির মুনাফা ও ইপিএস প্রত্যাশার কাছাকাছি হয় তাহলে শেয়ারের দর আবার বাড়তে পারে।