মার্চ থেকেই হাজারীবাগ ছাড়তে শুরু করছে ট্যানারি

0
59

tennary_picআগামি মার্চ মাসের মধ্যেই রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়াশিল্পকে সাভারে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ জন্য প্রাথমিক ভাবে প্রথম ধাপে ২৫ টি কোম্পানিকে স্থানান্তর করা হবে। পরিবেশগত ঝুঁকির বিবেচনায় এবং রপ্তানি বাড়াতেই দ্রুত স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লষ্টরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) এর সভাপতি আবু তাহের একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্থানান্তরের বিষয়টি জানান।

এদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স আ্যসোসিয়েশন এর সভাপতি শাহীন রহমানও স্থানান্তরের বিষয়টি অর্থসূচককে নিশ্চিত করেছেন।

শাহীন বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য খরচ বাবদ জাইকা থেকে যে ১০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে তাতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমানের সাথে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান শাহীন।

শাহীন জানান, অর্থায়নের বিষয়ে আপাতত একটা আশ্বাস পাওয়ায় প্রাথমিক ভাবে ২৫ টি কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন আসছে মার্চ মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়াটি শুরু হবে।

উলেখ্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বিসিকের সঙ্গে ২০০৩ সালে ট্যানারি মালিকদের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের জন্য মালিকদের ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপুরণ দেওয়া হবে।  কিন্তু পরবর্তীকালে দ্বিতীয় ধাপে ২০০৭ সালে সরকার ও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আরেকটি  সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এতে দেখা যায় প্রথম প্রকল্পের খরচ দ্বিতীয় বারের প্রকল্পে দ্বিগুণ হয়ে গেছে । ব্যয়ের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ১১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। যেখানে প্রথম প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল ১৭৫ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। আর দ্বিতীয় বারের প্রকল্পে এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪৫ কোটিতে ।

এরপর চামড়াশিল্পকে স্থানান্তর করার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবরে সই হওয়া ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তিতে নতুন করে বেশ কয়েকটি শর্ত যুক্ত হয়। শর্তানুযায়ী চামড়া নগরীতে (সিইটিপি) নির্মাণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান ও কারখানা স্থানান্তর কার্যক্রম সমানভাবে চলার কথা ছিলো। সেসময় সরকার ট্যানারি ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়। সেই সাথে  প্রকল্প বাবদ ৮০ শতাংশ খরচ দিতে রাজি হয়। এছাড় বাকি ২০ শতাংশ অর্থ মালিকদের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে মালিকরা এর পরেও স্থানান্তরের ব্যপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কারণ হিসেবে তারা বারবার বলেছে  অতিরিক্ত খরচের কথা। এ জন্য সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধাও চান ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) এর দাবি  কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণ ত্বরান্বিত করা, দ্রুততম সময়ে আরও ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ, রপ্তানি প্রণোদনা ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ করতে হবে। আর তা হলেই স্থানন্তর করা সহজ হবে।

এদিকে গত ২৪ ফেব্রুয়রি চামড়া শিল্পে ৭ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি)’র কাজ শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। আর কাজ শুরু না করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টম্বর  সিইটিপি কাজের মেয়াদ প্রথম পর্যায়ে শেষ হয়েছিলো। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আবার নতুন করে দ্বিতীয় পর্যায়ে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এই সময়েও কাজ শেষ হয়নি। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।