নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার যুক্তিতর্ক ১০ মার্চ

0
51
nizami

nizamiমানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর নতিন চেয়ারম্যান ইনায়েতুর রহিম আগামি ১০ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের এই দিন ধার্য করেছেন।

উল্লেখ্য নিজামীর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত বছরের ১৩ নভেম্বর যে কোনো দিন রায় প্রকাশ হবে বলে ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-১। তবে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর অবসরে যাওয়ার পর বেশ কিছুদিন থেকেই ঝুলেছিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কার্যক্রম। ফলে সংশয় দেখা দিয়েছিলো জামায়েতর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের রায়সহ বিচারাধীন আরও চারটি মামলা রায় নিয়ে। তবে সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ বুধবার আবার কার্যক্রম শুরু হয় ট্রাইব্যুনাল-১ এর।

এর আগে ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর একই ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলাটি কার্যক্রম শেষে রায়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিচারপতি নিজামুল হক স্কাইপি কেলেংকারীর কারনে সরে দাঁড়ান। পরে বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর নতুন করে মামলাটির যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় প্রকাশ হয়।

গত বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন ৭ নভেম্বর শুরু হয়ে চার দিবসে ১৯ নভেম্বর শেষ হয়। পরে ২১ অক্টোবর থেকে নিজামীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য শুরু হয়ে ৩ নভেম্বর শেষ হয়। গত ৬ অক্টোবর নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে নিজামীর বিরুদ্ধে মোট ২৫ জন জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ মে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগ এনে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে এক মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ট্রাইব্যুনাল-১ এ অন্য যে চারটি মামলা বিচারাধীর রয়েছে সেগুলো হল- জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুরের পলাতক বিএনপির নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ও বাহ্মনবাড়ীয়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনের মামলা।