শীতে চেপে বসা মেদ, কমানোর কিছু উপায়

0
146

health-মেদ শীতকাল পার করলাম কিন্তু শীতকালে যে অতিরিক্ত মেদ বাড়লো তা দূর করার চিন্তা করেছি কী? অভিজ্ঞজনেরা বলেন গরমের তুলনায় শীতে একটু বেশিই মেদ বাড়ে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন অফিসে বসে বসে কাজ করেন, তাদের জন্য এটা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় কীভাবে পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানো যায় সে সম্পর্কে আপনাদেরকে কিছু তথ্য দেওয়া হলো।

প্রথমে পেটের অতিরিক্ত মেদ বাড়ার কারণ নিয়ে কিছু কথা:

আসলে পেটে অতিরিক্ত মেদ জমা আমাদের সাধারণ জীবনে নিয়ম বিহীন খাবার ও চলাফেরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত যে কারণে মেদ বাড়ে তার প্রধান ৪টি কারণ হচ্ছে-

১. সবসময় বসে থাকা বা বসে কাজ করা-

দিনের অধিকাংশ সময় বসে থাকা বা বসে কাজ করার জন্য সহজভাবেই পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাবে। বিশেষ করে খাওয়ার পর কোনো হালকা শরীর চর্চা বিহীন, শুধু বসে বসে কাজ করা বা টেলিভিশন দেখা অথবা খাওয়ার পর পরই ইন্টারনেটে বসা। ফলে খাবারের মধ্যে থাকা অধিকাংশ চিনির উপাদান দ্রুত মেদে পরিণত হয়ে যায় এবং পেটে মেদের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

২. বেশি চাপের সম্মুখীন-

কাজের চাপের সম্মুখীন হওয়ার সময় অনেকে বেশি খাওয়ার মাধ্যমে তাদের মনকে শিথিল করেন অথবা অনেক খিদে লাগলেই যথেষ্ট সময় খাবার খাওয়া। তখন স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত খাবার থেকে শরীর এবং বেশি ক্যালরি গ্রহণ করে। যার কারণে সহজেই মোটা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর বাধা থাকে না।

৩. বসার ভঙ্গি-

অনেক লোকেরই পেটে মাংসের পরিমাণ খুব কম, তাই বসার সময় তারা মোকার ওপর শুয়ে থাকে এবং হাঁটার সময় তার গোটা শরীরটাকে শিথিল করে হাঁটে, ফলে তাদের পেটের ওপর চাপ বেশি পড়ে ফলে সহজেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং মোটা হয়ে যায়।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য-

অনেক লোক বিশেষ করে নারীরা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের অতিরিক্ত অরূপান্তরিত খাদ্যবস্তুপেটের ভেতর জমে থাকে, যার ফলে ধীরে ধীরে পেটের মেদ বেড়ে যায়।

মেদ কমানো কিছু খাদ্য:

কাগজি বাদাম

কাগজি বাদামের মধ্যে প্রচুর ভিটামিন, কোষপুঞ্জ, ভিটামিন ‘ই’ ও খনিজ উপাদান ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। তা হচ্ছে শরীরের মাংসপেশি ও রক্তে চিনি তৈরীর প্রয়োজনীয় উপাদান, রক্তচিনি নিয়ন্ত্রণ করার পাশপাশি অতিখিদের কারণে বেশি খাওয়ার ফলেও মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কারণ কাগজি বাদামের সবচেয়ে চমত্কার ভূমিকা হল তা শরীরের ক্যালরিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। গবেষণা থেকে জানা গেছে, কাগজি বাদামের সেলের মধ্যে যে উপাদান রয়েছে তা শরীরকে মেদ গ্রহণে বাধা দেয়। এ কারণে আপনারা যদি প্রতিদিন ২০টি কাগজি বাদাম খান, তাহলে শরীরের স্লিম বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ডিম

ডিমের মধ্যে নানা ধরনের টিপটোফান ও প্রোটিন রয়েছে। গবেষণা থেকে জানা যায় যে, প্রতিদিন সকালের নাস্তার সময় ডিম খাওয়া লোকজনের সারাদিনে যে পরিমাণ খিদে লাগে, তার চেয়ে বেশি খিদে লাগে ডিম না খাওয়া লোকজনের। ডিমের মধ্যে প্রোটিন থাকায় পেট ভরা থাকার অনুভূতি থাকে সারাদিন। যদি আপনাদের শরীরের কোলেস্টরল স্বাভাবিকথাকে, তাহলে প্রতিদিন সকালে একটি করে ডিম খাওয়া ভালো।

ডাল

ডালের মধ্যে কোষপুঞ্জ ও প্রোটিন রয়েছে। তা দিয়ে বীনকার্ড বা সয়া তৈরী করা যায়। এসব খাবার শরীরের স্লিম অবস্থা ধরে রাখার জন্য অনেক সহায়ক। মার্কিন পুষ্টি ইনস্টিডিউটের এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, প্রতিদিন সয়া খাওয়া লোক দুধ খাওয়া লোকদের চেয়ে আরো বেশি স্লিম। প্রতিদিন ২৫ গ্রাম ডাল খেলে, শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সহায়তা করবে।

সাকি/