পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ

0
59
special tribunal

special tribunal পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বহু আলোচিত এ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হলেন ময়মনসিংহের বিশেষ জজ (জেলা জজ) হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করে। এর আগে আইন মন্ত্রণালয় গত ৭ জানুয়ারি পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে হুমায়ুন কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক অর্থসূচককে বলেন, পুঁজিবাজারের মামলা নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত ফাইলটি প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ময়মনসিংহের বিশেষ জজ (জেলা জজ) হুমায়ুন কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। আশা করছি খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে পুঁজিবাজারের মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা গেছে, পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির ১৭ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারের ধসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির পর মামলা হলেও গত ১৭ বছর ধরে তা ঝুলে রয়েছে। ওই সময় মোট ১৫টি মামলা করা হয়েছিল। এ ছাড়া বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০১০ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হলেও তা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এসব মামলায় মোট ৪০ জন আসামি রয়েছেন।

জানা গেছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ায় আপিল বিভাগ ছাড়া অন্য সব আদালতে দায়ের করা আগের সব মামলা এ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ওই সব মামলা শুনানি বা কার্যাদি যে পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সে অবস্থা থেকে মামলা চালাতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে এ-সংক্রান্ত মামলার বিচার কাজ জেলা জজ আদালতে সম্পন্ন হতো।

২০১২ সালে এ ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনুমোদন দেয় সরকার। ১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ সংশোধন করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইন ২০১২ প্রণয়ন করা হয়। গত বছরের ২৪ নভেম্বর সচিব কমিটির সভায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে একজন বিচারকসহ মোট ছয় সদস্যের জনবল কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারকের বেতন স্কেল ৩৬ হাজার থেকে ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ, নিম্ন আদালতে মামলা দায়েরের পর অনেক ক্ষেত্রে ওই মামলা হাইকোর্টে স্থগিত হয়। কখনো নিম্ন আদালতে রায় হলেও উচ্চ আদালতে সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লেগে যায়। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছে কমিশন।

এছাড়া কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল এ ট্রাইব্যুনালেই মামলা রুজুর অধিকার পাবে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ থাকব।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, এসআরও নং-০১ আইন/২০১৪ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স,১৯৬৯ এর সেকশন ২৫ বি এর সাব-সেকশন (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ঢাকায় একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করল। সমগ্র বাংলাদেশ এর স্থানীয় অধিভুক্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হলো।

২০১২ সালে এ ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনুমোদন দেয় সরকার। ১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ সংশোধন করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর সচিব কমিটির সভায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে একজন  বিচারকসহ মোট ছয় সদস্যের জনবল কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ২০১২-এর ২৫(বি) ধারা অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর সচিব কমিটির সভায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ক্ষেত্রে একজন বিচারকসহ মোট ছয় সদস্যের জনবল কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ২০১২-এর ২৫(বি) ধারা অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে একজন দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজের বেতন স্কেল ৩৬ হাজার থেকে ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া একজন সাঁটলিপিকার,একজন বেঞ্চ সহকারী,একজন গাড়িচালক,একজন  জারিকারক ও একজন এমএলএসএস। অপরদিকে ট্রাইব্যুনালের জন্য একটি সিডান কার, একটি কম্পিউটার মেশিন,একটি ফটোকপি এবং একটি ফ্যাক্স মেশিন থাকবে।

জিইউ