রক্তাক্ত ২১ আগস্ট আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
87
21-August
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর একাংশের চিত্র

আজ ২১ আগস্ট। দেশের ইতিহাসে রক্তে ভেজা এক কালো দিবস।  ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১২তম বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এইদিনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় বর্বর হামলা চালানো হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে সপরিবারে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের রেশ ধরে তার কন্যা শেখ হাসিনার জীবন বিনাশে এই হামলা চালানো হয়। দৃশ্যত ধর্মীয় মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠি হরকাতুল জেহাদ এ হামলা চালালেও এর নেপথ্যে পুরনো সেই ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পৃক্ততা আছে বলে জোরালো সন্দেহ করা হয়।

21-August
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর একাংশের চিত্র

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সেনাবিহনীর কথিত বিপথগামী কিছু সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিনী ও তিন ছেলেকে হত্যা করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশে না থাকায় বঙ্গবন্ধু পুরো পরিবারকে নির্মূল করার অশুভ স্বপ্ন পূরণ হয়নি। একাত্তরের পরাজিত শক্তি, বঙ্গবন্ধু হত্যার সুবিধাভোগীসহ দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন এবং সহযোগিতায়  হরকাতুল জিহাদের মাধ্যমে তাদের পুরনো মিশন বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।

সেদিন (২১ আগস্ট) অনেকটা সৌভাগ্যক্রমে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। একের পর এক গ্রেনেড হামলার মধ্যেও তার নিরাপত্তারক্ষীরা বুলেটগ্রুফ গাড়িতে করে সমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে তাকে নিরাপদে বাবভবন সুধা সদনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। গ্রেনেড হামলার পাশাপাশি শেখহাসিনাকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করেও অসংখ্য গুলি ছোড়া হয়। ঘাতকদের বুলেট থেকে শেখ হাসিনাকে রক্ষায় বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন বিলিয়ে দেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওমীলীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারান। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন অসংখ্য নেতা-কর্মী। তাদের অনেকে এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

উল্লেখ, ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট  সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে শান্তি মিছিলের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিলের আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনে স্থাপিত ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন কর্মসূচির প্রধান অতিথি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তার বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গেসঙ্গে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গ্রেনেড ছোড়া হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে এসব গ্রেনেড। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে অসংখ্য মানুষের হাত-পাসহ দেশের বিভিন্ন অংশ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়ক।

ওই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামাতের জোট সরকার। তারা জঘন্যতম গ্রেনেড হামলার সুষ্ঠু তদন্তের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং ‘জজ মিয়া নাটকের’ মাধ্যমে ঘটনাকে ভিন্নখাতে ঠেলে দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিআইডির স্পেশাল পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দকে গ্রেনেড হামলা মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিনি জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে সম্পুরক চার্জশিট দেওয়া হয়।

মামলার অন্যতম আসামি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামাতের চার দলীয় জোট সরকারের একটি অংশের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবনে বসে গ্রেনেড হামলার হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। ওই বৈঠকে নিজে উপস্থিত ছিলেন বলেন জবানবন্দিতে স্বীকার করেন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান।

গ্রেনেড হামলা মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় আছে।