কোন আপেলে পুষ্টি বেশি, লাল নাকি সবুজ ?

Apleইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে—“An apple a day, keeps the doctor away”. অর্থাৎ প্রতিদিন অন্তত একটি করে আপেল খান আর ডাক্তার থেকে দূরে থাকুন। বুঝতেই পারছেন প্রতিদিন আপেল খাওয়ার গুরুত্ব কতখানি? অন্যান্য ফল কেন নয়? কেন কলা, কমলা, পেয়ারা বা আম নয়? কারণ আপেলে একসাথে সব পুষ্টি উপাদান আছে, যা বিভিন্ন ফলে থাকলেও একসাথে একটি ফলে নেই| তাই এই প্রবাদের প্রচলন ও আপেল খাওয়ার গুরুত্ব অনেক|

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন- বাজারে বিভিন্ন রংয়ের, বিভিন্ন ধরনের আপেল পাওয়া যায়। কোনটা বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ বা উপকারি? আসল কথা হচ্ছে- সবুজ, সোনালী, লাল, যেকোনো রকম আপেল থেকেই এই উপকারিতাগুলো পাওয়া যায়| অতএব যখন যেখানে যে রংয়ের আপেল পান কোনো দ্বিধা ছাড়াই সংগ্রহ করতে পারেন।

আপেল একটি অত্যন্ত পরিচিত ফল, যা সব যায়গায় পাওয়া যায়| দিনে এক থেকে দুইটি আপেল খেলে হার্টের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়| গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে– দিনে একটি আপেল খেলে রক্তের ক্ষতিকর LDL Cholesterol কমে|

সেই সাথে আরো পাওয়া গেছে যে, আপেল রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, diabetes হওয়া থেকে রক্ষা করে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে, বিভিন্ন রকম ক্যান্সার হওয়া থেকে শরীর কে রক্ষা করে, blood pressure, হার্টের অসুখ থেকে রক্ষা করে এবং ফুসফুস কে রক্ষা করে| আপেল শরীরের ওজন কমাতে ও নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে| এতে অন্যান্য ফলের তুলনায় প্রচুর antioxidant আছে| আপেল muscle tonic, diuretic, laxative, antidiarrheal, antirheumatic, ও stomachic.

 

আপেলের গুণ এতো বেশি কেন?

 

*  প্রথমত: আপেল খেতে খুবই সুস্বাদু, সহজে  ক্ষুধা নিবারণ করতে এই ফলের জুড়ি নেই|

অন্য ফাস্ট/junk  ফুড বা মিষ্টি খাবার খাওয়ার চেয়ে, মিষ্টি, কচকচে আপেল খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করা অনেক ভালো |

কারণ এতে মাত্র ৭০-১০০ ক্যালরি আছে| অফিসে, কাজের ফাঁকে বা পড়াশুনার  ফাকে স্ন্যাকস হিসাবে একটি আপেল খেয়ে নিতে পারেন|

* এতে প্রচুর ফাইবার আছে, যা হজমের জন্য ভালো| তাই bowel পরিষ্কার রেখে, কোলন ক্যান্সার হতে দেয় না।

* এতে carbohydrate, sugar, folic acid, potassium, calcium, B vitamins, iron, magnesium, ও zinc আছে।

* আপেলে পেকটিন নামক ফাইবার আছে, যা সহজে তরলে মিশে যায়|  এই ফাইবার অন্ত্র নালিতে cholesterol জমতে দেয় না,

এবং শরীর থেকে cholesterol খরচ করে কমাতে সাহায্য করে| এটি  ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে| এটি   ব্লাড প্রেসার

ও রক্তের glucose/ sugar নিয়ন্ত্রণ করে |  coronary artery disease ও diabetes এর রোগীরা তাই এটি খেলে উপকার পান |

এটি  হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরিতে সাহায্য করে | তাই এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি   করে ও ঠিক  রাখে

* আপেলের খোসায় polyphenols  নামক  antioxidant আছে, যা কোষকে ধ্বংশ হয়ে দেয় না|

*  আপেলে phenols আছে, যা LDL Cholesterol   কমায় ও ভালো cholesterol HDL  বাড়ায়|

* আপেলে  পর্যাপ্ত boron আছে, যা হাড়কে  শক্ত   রাখতে  সাহায্য করে ও ব্রেইনের  স্বাস্থ্য  ঠিক রাখে

* আপেলে আছে flavonoid, যা antioxidant, এটি রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে, হার্টের অসুখ ও ক্যান্সার হতে রক্ষা করে

* আপেলে Quercetin আছে, যা একটি  flavonoid,  এটি   বিভিন্ন  ধরনের  ক্যান্সার হতে শরীরকে রক্ষা করে|

এই  পুষ্টি উপাদানটি  free radical ধ্বংশ  হতে রক্ষা করে| তাছাড়া এটি DNA ধ্বংশ  হতেও  রক্ষা করে|

Free radical ধ্বংশ হতে রক্ষা করার  জন্য, বার্ধক্য  জনিত  রোগ, যেমন: Alzheimer’s হতেও এটি রক্ষা করে |

*  আপেলে প্রচুর Phytonutrients, যেমন: ভিটামিন A, E ও beta carotene আছে| এগুলো  ও free radical ধ্বংস হতে,

ব্রেইনের অসুখ হতে বাধা দেয়, ফুসফুস ভালো রাখে ও শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ভালো রাখে | ফলে শরীর অনেক রোগ

থেকে মুক্তি  পায় , যেমন: হার্টের অসুখ , Diabetes ও Asthma , Parkinsonism , Alzheimer’s.

*  অন্যান্য  ফলের মত  আপেলের চিনি  রক্তের চিনির মাত্র বাড়িয়ে  দেয় না| ফলে  diabetes এর  রোগীরা  নিশ্চিন্তে

পরিমানমত  আপেল খেতে পারেন |

*  আপেলে কোনো লবন  নেই, তাই আপেল থেকে অতিরিক্ত  লবন খাবার  কোনো সম্ভাবনা  নেই|

* আপেলে  সামান্য  ভিটামিন সিও আছে| তাই আপেল রোগ প্রতিরোধেও  সাহায্য করে |

তাছাড়া ভিটামিন সি তাড়াতাড়ি রোগ সারাতে সাহায্য করে|

* আপেল লিভার ও gall bladder পরিষ্কার রাখে, এর পাথর (gallstones) দূর করে বা ধ্বংস  করে

*  আপেলের প্রচুর পানি আছে, তাই এটি পানিশুন্যতা দূর করে, তৃষ্ণা মেটায় ও শরীর ঠান্ডা করে|

* জ্বর হলে তা কমাতে সাহায্য করে, তাই জ্বর এর রোগীরা আপেল খেলে ভালো বোধ করেন|

*  আপেলের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তা কফ দূর করে|

* ডায়রিয়া হলে তা সারাতে সাহায্য করে|

* মাসেল টোন করতে সাহায্য করে ও ওজন কমায়

*  Gastric এর সমস্যা কমায়

* আপেলের রস দাঁতের জন্য ও ভালো| কারণ ব্যাকটেরিয়া এর কারণে দাঁতের ক্ষয় হয়,     আপেলের রস ৮০% পর্যন্ত দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে|

তাই, স্বাস্থ্য টিপসে প্রতিদিন অন্তত একটি করে আপেল খাওয়ার তাগিদ রয়েছে।