ঢাকা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে মানবপ্রাচীর

0
55
dhaka college

dhaka collegeঢাকা কলেজকে পূর্নাঙ্গ স্বায়ত্বশাষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের জন্য মানবপ্রাচীর কর্মসূচি করেছে কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে এক মানবপ্রাচীর অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় হাজার দুয়েকের মতো শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা এ সময় নানারকম প্লাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা কলেজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করো’, ‘উচ্চশিক্ষার সূচনাস্থলকে তার পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা দাও’ এবং ‘রক্ত নাও বিশ্ববিদ্যালয় দাও’—এসব প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন করেন। শিক্ষার্থীরা এ সময় ‘এক দফা এক দাবি, ভার্সিটি ভার্সিটি’ স্লোগান দেয়।

মানববন্ধনটি ইতিহাস বিভাগ থেকে শুরু করে মূল ফটক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সুশৃংঙ্খলভাবে মানববন্ধন শেষ করে ছাত্ররা কলেজের শহীদ মিনারের পাদদেশে এসে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী ছাত্ররা জানান, “ঢাকা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি একেবারে যৌক্তিক। যতদিন পর্যন্ত ঢাকা কলেজকে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা না করা হবে ততদিন পর্যন্ত এ দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”

নতুন কর্মসূচি :

১. আগামি ৪ মার্চ মঙ্গলবার প্রেসক্লাবের সামানে মানববন্ধন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান।

২. ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬শে মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ক্যাম্পাসে গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচি।

৩. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে জনমত তৈরি ও মানবপ্রাচীরের জন্য ক্যাম্পেইন। কলেজের প্রতিটি বর্ষের ছাত্রদের নিয়ে সাব-কমিটি গঠন।

৪. পরবর্তি কর্মসূচি শেষে ছাত্র সমাবেশ, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং কনসার্ট ফর ভার্সিটি-এর তারিখ ঘোষিত হবে।

এর আগেও বেশ কয়েকবার ঢাকা কলেজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের জন্য অহিংস আন্দোলন, মানববন্ধন, মন্ত্রণালয়ে স্বারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে কলেজটি শিক্ষার্থীরা। তবে তখন এসব আন্দোলন প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন ছাত্রসংঠনের নেতাদের চাপের মুখে সফলতার মুখ দেখেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছে বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে নিতে ঢাকা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করা সময়ের দাবি।

এবার আন্দোলন সফল করতে মাঠ পর্যায়ে আন্দোলনের পাশাপাশি অনলাইনেও বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপে ঢাকা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করার জোর দাবি জানিয়ে আসছে।

শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় আয়োজকদের একজন রেওয়ানুল হক বলেন, “চোখের সামনে জগন্নাথ কলেজ হয়ে গেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কলেজ হয়ে গেল শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ উপমহাদেশের প্রথম ৫ টি কলেজের অন্যতম এই কলেজটি উচ্চ শিক্ষার সদর দরজা থেকে বিচ্যুত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা এখানে রয়েছে। এখন শুধু সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই ঢাকা কলেজকে পূর্নাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা সম্ভব।”

আন্দোলনের আরেক আয়োজক আতিক হাসান বলেন, “আমাদের এ যৌক্তিক অহিংস আন্দোলন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চালিয়ে যাবো। আমাদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলতে ইতোমধ্যে আমরা কয়েকহাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। শিক্ষার দ্রুত প্রসার, আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বায়নের এ যুগে শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে দেশের অন্যতম এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় করা প্রয়োজন।”

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ড. আয়েশা বেগম বলেন, “শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্বপ্রণোদিত হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কলেজ প্রশাসন সাধারণ ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং কলেজের সম্পদের যেন কোন ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক আছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় করার যে দাবি জানিয়ে আসছে এটা নিতান্তই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাপার এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।”

যাকা/সাকি