কেরানী থেকে কোটিপতি: অনুসন্ধানে দুদক

0
90
luxurious apartment
এমনই অনেক বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন সাবেক কেরানি রিয়াজ উদ্দিন
luxurious apartment
এমনই অনেক বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন সাবেক কেরানি রিয়াজ উদ্দিন

স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে আলাদিনের চেরাগের মতো হঠাৎ করে শত শত কোটি টাকা অর্জন করেছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক কেরানী (ক্যাশিয়ার) রিয়াজ উদ্দিন।এসব অবৈধ সম্পদ অর্জনে তিনি সরকারি দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীতে ১০টি বাড়ি, ১৮টি প্লট এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ২১৮ বিঘা জমি, কারখানা ও বাণিজ্যিক ভবনসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি দুদকে আসা এক অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সফিউল আলমকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দুদকের নির্ভরযোগ্য সূত্র।

দুদকের কাছে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের অধিবাসী রিয়াজ উদ্দিন সরকারি মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের কেরানী থাকা অবস্থায় রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করতেন।তখনই তিনি বিমানবন্দর কেন্দ্রিক চোরা কারবারের জড়িয়ে পড়েন।আর অল্প দিনের মধ্যেই মালিক হন শত শত কোটি টাকার।কয়েক বছরের মধ্যে তিনি ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০টি বাড়ি, ১৮টি প্লট, ২১৮ বিঘা জমি, তিনটি বাণিজ্যিক ভবনসহ গাজীপুরের কোনাবাড়িতে এসইউএস ফেব্রিক্স লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। এরমধ্যে রাজধানীর উত্তরায় ৩ সেক্টর ৬ নম্বর রোডে ১টি দু’তলা বাড়ি, উত্তরায় দক্ষিণ খানে ৩টি, খিলক্ষেতে ৩টি ও উত্তরার ১৫ নং সেক্টরে ৩টিসহ মোট ১০টি বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি।আর উত্তরার ১৩ নং সেক্টরে নির্মাণ করেন জমজম  টাওয়ার নামে একটি বাণিজ্যিক ভবন।

অন্যদিকে তিনি সামান্য চাকুরী করে এ দশটি বাড়ির পাশাপাশি ঢাকার পূর্বাচলে ১৫টি ও উত্তরার ১৫ নং সেক্টরে তিনটিসহ মোট ১৮টি প্লট ও ময়মনসিংহের ফুলপুরে ৪৮ বিঘা, সিরাজগঞ্জের নিজ থানায় ৭০ বিঘা, একই জেলার পিপুল বাড়িয়ায় ১০০ বিঘাসহ মোট ২১৮ বিঘাজমি ক্রয় করেন।

এছাড়া তিনি গাজিপুরের কোনাবাড়িতে এসইউএস ফেব্রিক্স লিমিটেড নামে ওয়াশিং প্লান্ট, সফিপুরের আনসার একাডেমির পাশে লুপ ফ্যাক্টরি ও নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের বাগবাটিতে পাওয়ারলুম নামে কারখানা নির্মান করেন। আর গাজিপুরের মৌচাকে ১০টি ও ঢাকার স্টেডিয়াম মার্কেটে ৪টিসহ মোট ১৪টি দোকানের মালিক হন তিনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া রিয়াজ উদ্দিন জনতা ব্যাংকের রাজধানীর একটি শাখায় কেরানীর চাকরি করতেন। চাকুরি সুবাদে চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে কোটিপতি বনে যান তিনি। আর  বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগের কারণে নিজেই চাকরী থেকে অবসর নেন এ আলোচিত ব্যক্তি।আর ২০১৩ সালে চাঞ্চল্যকর এক গাড়িতে স্বর্ণের ৩টি চালানের খালাস দেওয়ার ঘটনার মূল হোতা হিসেবে নাম আসায় ও অবৈধভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।