রাসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরুন্নাহার

0
62
রাজশাহি সিটি কর্পোরেশন

রাজশাহি সিটি কর্পোরেশনরাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র মো. মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও ১৪ কাউন্সিলর জেলহাজতে যাওয়ায় কার্যক্রমে স্থবিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে রাসিকের তিন নম্বর প্যানেল মেয়র ও ৯ নং জোনের সংরক্ষিত কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার রাসিকের বিভিন্ন শাখা ও দপ্তর প্রধানের সঙ্গে রাসিকের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে মতবিনিময়ও করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাসিকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন এবং প্যানেল মেয়র-১ মো. আনোয়ারুল আমিন ও প্যানেল মেয়র-২ মো. নুরুজ্জামান টিটো’র অনুপস্থিতির কারণে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ এর ২১ (১) ধারা মোতাবেক প্যানেল মেয়র-৩ ও সংরক্ষিত আসন ৯ এর কাউন্সিলর মোসা. নুরুন্নাহার বেগম আজ ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি আজ বিকেলে তার দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন আমার জন্য আমানত। এ আমানতের কোন ভাবেই যেন খেয়ানত না হয় এ বিষয়ে আপনারা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন ও আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমার বড়ভাই মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের অনুপস্থিতকালীন সময়ে আমি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।’

কারাগারে যাওয়া কাউন্সিলররা হলেন, রবিউল ইসলাম মিলু, আনোয়ারুল আমিন আজব, নুরুজ্জামান টিটো, মাহবুব সাইদ টুকু, মনির হোসেন, আশরাফুর হাসান বাচ্চু, ইকবাল হোসেন দিলদার, মোহাম্মদ টুটুল, তরিকুল ইসলাম পল্টু, নূর মোহাম্মদ মোল্লা, বেলাল আহমেদ, মুনসুর রহমান, রুহুল আমিন টুলু, সোহরাব হোসেন শেখ। এর আগে নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজাহান আলীকে পুলিশ একই মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তিনি এখনো জেলহাজতে রয়েছেন।

এছাড়া জেলহাজতে রয়েছেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, সহ-সভাপতি ও বোয়ালিয়া থানার সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু, মহানগরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, রাজপাড়া থানার সভাপতি শওকত আলী, মতিহার থানার সভাপতি আনসার আলী, রাজপাড়া থানার সহ-সভাপতি আলী হোসেন, শাহমুখদুম থানার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক ওয়ালিউল হক রানা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সুইট ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটনসহ শীর্ষ নেতারা।

তবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এসেছেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা।

সোমবার সন্ধ্যায় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের জরুরী সভা এবং মঙ্গলবার বিকেলে নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন। তিনি জানান, বিএনপির প্রথম সারির নেতারা জেলহাজতে থাকলেও দলীয় কর্মকান্ড আগের মতোই গতিশীল থাকবে। একই সাথে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর রাজশাহীর লোকনাথ স্কুল মার্কেট এলাকায় পুলিশ ভ্যানে বোমা হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকার মারা যান। ওই রাতেই বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। ওই মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে সোমবার মহানগর বিএনপির শীর্ষ ৩৪ নেতা রাজশাহীর অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। শুনানী শেষে আদালতের শেখ মেরিনা সুলতানা জামিন নামঞ্জুর করে সকলকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাকি/