প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যবস্থা বিসিককে এগিয়ে নেবে

0
33
বিসিক

বিসিকপ্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন প্রক্রিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনকে (বিসিক) এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন ও যথাযথ ব্যবহারের জন্য কার্যকরী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কথাও বলেন তারা।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে বিসিকের অতীত বর্তমান ও ভবিষৎ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকের শেষ পর্বের আলোচনায় বক্তরা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউণ্ডেশন (পিকেএসএফ)’র চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক  আবুল বারাকাত, শিল্প মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিএম জয়নুল আবেদীন ভূঁইয়া, বিসিকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সিরাজউদ্দীনসহ অন্যান্যরা।

আবুল বারাকাত বলেন, বিসিকের প্রয়োজনীয়তা এখন অনেক বেশি। জাতীয় রপ্তানিখাতে বিসিকের অবদান ১০ শতাংশ বলে জানান তিনি। তাই এটা কোনো ছোট জায়গা নয়, অনেক বড় অংশ।

দেশকে স্বল্প বৈষম্য কমিয়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে বিসিকসহ সব ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আর এর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নসহ এসএমই খাত প্রাধান্য পাবে বলে মনে করেন তিনি।

খলীকুজ্জামান বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে এগিয়ে নিতে আরো জনবলের প্রয়োজন। ক্ষুদ্র শিল্পের চিন্তার প্রসারতা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তাছাড়া প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন ও যথাযথ ব্যবহারের জন্য কার্যকরি প্রশিক্ষণ দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আর এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের যোগসূত্র আরও বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিসিকের প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম বলে মনে করেন। তিনি বিসিকের প্রত্যেক ইউনিট চালু রাখার নির্দেশ দেন। জনবলকে কাজে লাগিয়ে সহায়তা চাইলে সরকার এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এই খাত থেকে আসে বলে জানান তিনি। এই জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবলকে সংগঠিত করার কথা বলেন তিনি।

আর কার্যকরি প্রশিক্ষণের জন্য ওয়ার্কশপ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ড. খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ। এছাড়া বড় কারখানাগুলোর সঙ্গে সংযোগ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। যাতে ক্ষুদ্র কারখানার তৈরি হওয়া সামগ্রীগুলো তারা ব্যবহার করতে পারে।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আলাদা শিল্প ব্যাংক তৈরির পক্ষে মত দেন। যেখান থেকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংশ্লিষ্টরা আরও অর্থ সহায়তা পেতে পারে। এছাড়া কুটির শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠাসহ এই শিল্পের জন্য লিমিটেড কোম্পানি করা যায় কি না তা ভেবে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। আর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য গ্যাস বিদ্যুৎসহ ভূমি ব্যবস্থাকে আরও সহায়ক করার পরামর্শ উঠে আসে।