মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে দেশে অপরাজনীতি চলছে: ড.কামাল

0
55
dr.kamal

dr.kamalমুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে দেশে অপরাজনীতি চলছে বলে মন্তব্য করলেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল।

ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিপদগ্রস্থ গণতন্ত্র উত্তরণের ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, তথাকথিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিতর্কিতরাই অংশ গ্রহণ করেছে। এবং তারা জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করলেওে এই দলটির অধীনেই স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় এমন ব্যক্তিরাও নির্বাচিত হয়েছে। এই হচ্ছে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির পরিচয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, হল উদ্ধারের ছাত্রদের আন্দোলন ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক সেখানে কেন এত হামলা করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়তে (রাবি) সাধারণ ছাত্ররা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছিল অথচ সেখানে বলা হচ্ছে শিবির আন্দোলনে ঢুকে গেছে। শিবির হামলা করছে। কিন্তু সেখানেও তো আমরা ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। তারা এ অভিযোগের সত্যতা পায়নি।

তিনি বলেন, যে কোনো জায়গায় ন্যায় সঙ্গত কোনো আন্দোলন হলে তা যদি  সরকারের বিরুদ্ধে যায় তখন সেটাকে জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন বলে সরকার মিথ্যা প্রচার চালিয়ে জনগনকে বিভ্রান্ত করে।

মূলত রাজনীতির পায়দা লুটতেই এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে তারা এটা নিয়ে মানুষের সাথে ভাওতাবাজী করছে। তারা বড় দল হিসেবে দাবি করে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে।

তিনি বলেন, এ দেশে বড় রাজনৈতিক দল হওয়ার জন্য যাদেরকে ছাত্ররা সহায়তা করছে তারাই আজ ছাত্রদের হাতে অস্র তুলে দিয়ে তাদের জীবন ধ্বংস করছে।

যারা অশ্র নিয়ে, গাঁজা নিয়ে, পায়ের ধূলা নিয়ে রাজনীতি করে তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার। চোর প্রতিষ্ঠিত হবে কিন্তু তারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না।

সরকার দলীয়দের সমালোচনা করে তিন বলেন, টিভি স্টেশন আর ব্যাংকের মালিক হওয়ার জন্য ছাত্ররা দেশ স্বাধীন করেনি।

স্টক মার্কেট আর ব্যাংকে যাদের হাজার হাজার কোটি টাকা রয়েছে তারা স্বাধীনতায় কি ভূমিকা রেখেছিল এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধে ছাত্ররা এই জন্য জীবন দেয়নি। শহীদদের জীবন আগে ফিরিয়ে দাও তারপর এসব সম্পদের মালিক বনে যাও।

এ সময় তিনি ধর্ম নিয়ে যারা ব্যবসা করছে তাদেরও সমালোচনা করেন।

৬ দফা আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের মূল নেতার যায়নি বলে অভিযোগ তুলেন তিনি।

সরকার দলীয় ছাত্রলীগের ছেলেরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলায় জড়িত হচ্ছে। এদেরকে সরকারই অপরাজনীতির দিকে নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক আন্দোলনে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অথচ জুবায়ের হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পাহারায় মাত্র ৩ জন পুলিশ দেওয়া হয়েছে। এই হল আমাদের দেশের গণতন্ত্র আর স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা।

সংগঠনের আহ্বায়ক আজম রূপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক, সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

জেইউ/সাকি