প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি আদেশ কমেছে ২০ শতাংশ

0
44

plasticচারদিন যজ্ঞের পর অবশেষে পর্দা নামল ৯ম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক পণ্য মেলার। কিন্তু মেলা শেষের হিসাব-নিকেশ হাসি ফুটাতে পারেনি ব্যবসায়ীদের মুখে। তারা জানালেন, এক বছরের ব্যবধানে মেলায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রপ্তানির আদেশ কমেছে ২০ শতাংশ। পাশাপাশি মার্কিন জিএসপি নিয়ে টানা-হেঁচড়াতো আছেই। তাই দেশীয় প্লাস্টিক শিল্প বাঁচাতে সরকারের কাছে নগদ অর্থ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ প্ল্যাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ), চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড এবং ইয়র্কারস ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিস কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় ৯ম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক, প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেয়ারের।

২০-২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মেলায় দেশি-বিদেশি ৩০০টি স্টল অংশ নেয়। মেলায় বাংলাদেশ সহ চিন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাস্ট্রসহ মোট ১৫টি দেশ অংশগ্রহণ করে। মেলায় দেশীয় ১৫টি বিভাগে যেসব প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে তাদের মধ্যে- প্লাস্টিক গৃহস্থালি পণ্য, প্যাকেজিং, প্লাস্টিক ছাঁচ, খেলনা, ফার্মাসিউটিক্যালস, আসবাবপত্র পণ্য, মেলামাইন পণ্য, গার্মেন্টস পণ্য উল্লেখযোগ্য।

বিপিজিএমইএ জানায়, এইবারের মেলায় মোট ২০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। যা বিগত বছর প্রাপ্ত আদেশর তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। ২০১৩ সালে আয়োজিত ৮ম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলায় রপ্তানি আদেশর পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

প্লাস্টিক ব্যবসায়ীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা বাতিলের কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদানকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও মুখে এই কথা শোনা গেছে।

এই অবস্থায় প্লাস্টিক শিল্প বাঁচাতে সরকারের কাছে নগদ অর্থ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মেলার সমাপণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বিপিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট জসীম উদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে জিএসপি সুবিধা বাতিলের কারণে প্লাস্টক শিল্প যে দুরাবস্থায় পড়েছে তা কাটিয়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সাহায্য দেয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেলে আমাদের এই সাহায্য না দিলেও চলবে।

এছাড়াও দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে প্লাস্টিক সম্পর্কিত প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি শিক্ষা কেন্দ্র খোলার জন্য সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায় তিনি।