ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ

0
62
বিসিক

বিসিকক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। সেই সাথে এই শিল্পের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনেরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে বিসিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকের প্রথম পর্বের আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মুহাম্মদ ফরাস উদ্দীন, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান ড. জায়েদ বখত, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম মোয়াজ্জেম, ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, বিসিকের প্রযুক্তি পরিচালক আবু তাহের খান আলোচনায় অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনশীলতা ও দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। এই শিল্পের সব লেবেলের উদ্যোক্তাদের সমান প্রাধান্য দিয়ে আরও দক্ষ করার প্রয়াস বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।

আলোচনায় ড. সৈয়দ গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন বিসিকের মূল লক্ষ্য হতে পারে না। এর সাথে প্রতিযোগী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। যারা ছোট থেকে বড় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বের হয়ে আসছে।

তিনি উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা লেবেল বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা তুলনামূলকভাবে বাড়েনি। তবে এই উদ্যোক্তাদের পণ্য পরিবহন, বাজার সমস্যা, মার্কেটিং ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে এখনও প্রশিক্ষণের বেহাল দশা রয়ে গেছে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য একটি মন্ত্রণালয় হতে পারে। আর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রাণালয়ের জন্য এই শিল্পের  সামর্থ্য রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

যেখানে এসএমই খাত নারীর কার্যক্রম ও উৎপাদনশীলতার সব কার্যক্রম এর আওতায় আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এম এম আকাশ বলেন, এই শিল্পকে আরও উন্নয়ন করতে হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে আলাদাভাবে ভাগ করে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তাতে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এর ফলে দেশিও বাজারের প্রসারতা বাড়বে। তাতে এই শিল্পের পণ্যের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তাছাড়া রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পায়ন তৈরি হলে প্রকৃত শিল্পায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। আর এজন্য উপযুক্ত বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, বিসিকের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। যেখাতে প্রযুক্তির দুর্বলতা রয়েছে তা দূর করার পরামর্শ দেন তিনি। অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

ড. মুহাম্মদ ফরাস উদ্দীন বলেন, বিসিকের উন্নয়ন দর্শন কর্মসংস্থান ভিত্তিক না করলে প্রকৃত উন্নয়ন বাস্তবায়ন হবে না বলে মনে করেন তিনি। তাই দেশকে প্রকৃত দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।