দুই নেত্রীর সংলাপে বসার রিট খারিজ উচ্চ আদালতের

0
58
hasina-khaleda
হাসিনা ও খালেদা

hasina-khaledaআওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি সংলাপে বসার বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। কার্যকারিতা না থাকার কারণেই আদালত এই রুল বাতিলের আদেশ দেন।

মঙ্গলবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

অবাধ ও স্বচ্ছ  সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে দুই নেত্রী এবং তাদের জোটের নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠানের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে  গত বছরের ২৭ মার্চ এ রুল জারি করেন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও বিচারপতি জাফর আহমদের বিশেষ বেঞ্চ। রুল জারির ৪ সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলেন হাইকোর্ট।

দেশের তৎকালীন পরিস্থিতির আলোকে এ রুল জারি করা হয়। বর্তমানে সে পরিস্থিতি না থাকায় রুলটিও অকার্যকর হয়ে পড়েছে বিবেচনা করে মঙ্গলবার তা খারিজ করে দিলেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনকারী ইউনুস আলী আকন্দ সে সময় বলেন, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে হরতাল-অবরোধ হচ্ছে। এ হরতাল-অবরোধের কারণে সম্প্রতি দেড় শতাধিক মানুষ মারা গেছে।

‌১৬ কোটি মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণ, আগামি সাধারণ নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান পরিত্যাগ করে দুই নেত্রীকে নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করতে নির্দেশনা প্রার্থনা করছি।

দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এসব রুল জারি করা হয়। গত বছরের ১৪ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. ইউনুস আলী আকন্দ। পরে ২০ মার্চ বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও বিচারপতি জাফর আহমদের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির সময় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাও এ রিটের পক্ষে শুনানি করবেন বলে আদালতকে অবহিত করেন। এরপর ২১ মার্চ রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ছুটি থাকায় আর শুনানি হয়নি।

এদিকে ২১ মার্চের পরে ওই অবকাশকালীন বেঞ্চের এখতিয়ার না থাকায় আবেদনকারীরা প্রধান বিচারপতির কাছে রিট শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনে আবেদন জানান। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চকে বিশেষ বেঞ্চ হিসেবে গঠন করে এ রিট  আবেদনের  শুনানি করতে অনুমতি দেন প্রধান বিচারপতি।

পরে ২৯ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবর এ রুলের শুনানিতে অংশ নেন আবেদনকারী ও সরকারপক্ষ। রিট আবেদনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট, নির্বাচন কমিশন (ইসি), বাংলাদেশ সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়।

এসএসআর/ কেএফ