গুন্ডের তথ্য অপরিবর্তিত রাখার কথা বলল যশরাজ ফিল্মস

0
39

gundayসদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউড সিনেমা ‘গুন্ডে’-তে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তার জন্য দু:খ প্রকাশ করলেও তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে যশরাজ ফিল্মস। একইসাথে এর প্রদর্শন বাতিল করা হবে না বলেও জানিয়েছে তারা। খবর বিবিসি বাংলার।

এ ছবিতে বাংলাদেশকে বাংলাস্তান বলা হয়েছে। একই সাথে বলা হয়েছে হিন্দুস্তান ও পাকিস্তানের যুদ্ধের ফলে বাংলাস্তান নামক একটি দেশের জন্ম হয়েছে এবং তাতে নাকি হিন্দুস্তান থেকে আলাদা হয়ে গেছে বাংলাদেশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গুন্ডে সিনেমার এই বিতর্কিত তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বালাদেশের মানুষ। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে চিঠি লিখে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ওই সিনেমার তথ্যানুযায়ী ১৯৭১ সালে হিন্দুস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে তৃতীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ৯০ হাজার পাকিস্তানি সেনা ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ  করে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ মাপের আত্মসমর্পণ আর এরপরই জন্ম হয় নতুন এক দেশের-  যার নাম  বাংলাদেশ।

ছবিটির নির্মাতা যশরাজ ফিল্মস কয়েক  দিন আগেই তাদের ফেসবুকে  পোস্ট করেছে- “এ বিষয়ে অনেক বাংলাদেশী ভাইয়েরা তাদের উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন, এবং গুন্ডে’তে যেভাবে গল্প বলা হয়েছে তা যদি তাদের যদি অমর্যাদা করে থাকে বা আঘাত দিয়ে থাকে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী”।

এর বাইরে তাদের আপাতত আর কিছু করার নেই বলেও জানিয়েছে তারা।

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন সিনমা হলে ছবিটির যে প্রদর্শনী চলছে তা বাতিল করা কিংবা ছবির প্রিন্টে কোনো রদবদল আনাও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে যশরাজ ফিল্মস।

এ বিষয়ে স্বদেশীয় চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বলেন, “সিনেমায় এ ধরণের বেহিসেবি মন্তব্য করে গুন্ডের নির্মাতারা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন”।

তার মতে ছবিটি যারা বানিয়েছে তাদের বিন্দুমাত্র ইতিহাস জ্ঞান নেই। আর এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে ছবি বানালে বাংলাদেশের প্রতিবাদকে স্বাভাবিক হিসেবেই মনে করেন তিনি।

ভারতীয় সেন্সর বোর্ড কীভাবে ছবিটির ছাড়পত্র দিয়েছে  তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকালীন ইতিহাসের অধ্যাপক ড: শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, “ ভারতের তৈরি বিভিন্ন সিনেমার কাহিনী বা সংলাপ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিক্ষোভ কিন্তু নতুন ঘটনা নয়”।

অতীতে ‘তেরে বিন লাদেন’, ‘বিশ্বরূপম’ বা ‘বর্ডার’ ছবি নিয়েও প্রতিবেশী দেশগুলোতে যে সমস্যা হয়েছিল তার কথাও জানান তিনি।

‘চাঁদনি চক টু চায়না’ ছবি নিয়ে বিতর্কের কথাও বলেন তিনি। এ ছবিতে ভারতকে গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করার পর নেপালে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছিল। সে দেশে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ছবিটির প্রদর্শন।

দু:খের বিষয় হলো গুন্ডে বিতর্ক নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি কিংবা কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই জানায়নি ভারত সরকার। বাংলাদেশ সরকারের চিঠিটি ভালো করে খুঁটিয়ে পড়ার পরেই ভারত সরকার  প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে বলে জানা গেছে।

এসএসআর