মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতি জেলায় টিটিসি প্রতিষ্ঠা করছে সরকার

0
47
Amir Hossain Amu
ফাইল ফটো

Amu_2দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়নো সম্ভব বলে মনে করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। আর বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে দক্ষ কারিগর তৈরির উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। মন্ত্রী জানান এ জন্য প্রতিটি জেলায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরু করেছে সরকার।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের (বিসিক) অতীত বর্তমান ও ভবিষৎ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন আমির হোসেন আমু।

মন্ত্রী বলেন, জেলায় জেলায় দক্ষ শ্রমিক তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হলে দেশ আরও বেশি শ্রমিক পাঠাতে পারবে। অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। সে ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিক পাঠালে আরও বেশি রেমিট্যান্স আসবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিসিক নগরিতে এখন ৪ হাজার ২শ’র বেশি শিল্প ইউনিট উৎপাদন করছে। আর এই ইউনিটগুলোতে ৫ লাখ ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে জানান তিনি।

২০১২-১৩ অর্থবছরে এই কারখানাগুলোতে ৩৬ হাজার ৯৭ কোটি টাকার পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করেছে বলে জানান তিনি। আর এই সব পণ্যের প্রায় ৫৮ শতাংশই রপ্তানিযোগ্য বলে জানান তিনি। শিল্পায়নের ধারা বজায় রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্প সম্ভাবনা যাচাই করে বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, বিসিককে দেশের শিল্পায়নের অভিযাত্রায় রোল-মডেল হিসেবে তুলে ধরতে সরকার সব ধরনের সহয়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মানান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য উজ্জল বিকাশ দত্ত, এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মেদ, বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার অন্যান্যরা।

অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিকের ভূমিকা এখন নেই। তবে নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।

তার মতে, দেশের শিল্প বিকাশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ভূমিকা অনেক বেশি। দেশে সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ৩৫ লাখ লোক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে জড়িত। সাপ্লাই চেইন বন্ধ হলে পোশাক শিল্প বিশেষ প্রণোদনা পায়। তবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এই প্রণোদনা পায় না। বিসিক শিল্পে তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা নিষেধ ছিলো।

তবে এই বিধিমালা না মেনে ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বেশি উৎসাহি হয়েছে। যার ফলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নতি হলে দেশের বেকার জনগোষ্ঠী লাভবান হবে বলেও মনে করেন তিনি। তাই এই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ সাধনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।