বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি-রপ্তানিমূল্য পরিশোধ করা যাবে

0
75
bangladesh bank

bangladesh bankএখন থেকে আমদানি-রপ্তানির আনুষঙ্গিক খরচ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি বৈদেশিক মুদ্রায় পরিচালিত সকল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক খরচ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের টাকায় পরিশোধ করা হতো। নতুন এ নীতির ফলে আমদানি-রপ্তানির বিল পরিশোধ অনেক সহজ হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মূলত আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যকে সহজীকরণ করতে বৈদেশিক লেনেদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমদানি বাণিজ্যকে সহজীকরণ করতে শিপিং কোম্পানি বা এয়ারলাইন্সগুলো বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খুলতে পারবে। কারণ, তাদেরকে বিদেশে পরিবহন ব্যয়ের একটি অংশ ডলারে পরিশোধ করতে হয়। তবে এ ধরনের হিসাব খোলা ও পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত জানাতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, শিপিং লাইসেন্স বা এয়ারলাইনস অথবা অনুমোদিত পণ্য পরিবহনে সম্পৃক্তদের নামে কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব খুলতে পারবে। মার্কিন ডলারে এ হিসাব পরিচালিত হবে। তবে অন্য যেকোনো মুদ্রায় তা সহজে বিনিময়যোগ্য হবে। এ হিসাবে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে পরিবহনের খরচ বৈদেশিক মুদ্রায় জমা করা যাবে। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে কোনো পণ্য বাংলাদেশে আমদানিতে পণ্যবাহী জাহাজের খরচ বা কোনো চার্জ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধে এ হিসাবে থাকা তহবিল ব্যবহার করা যাবে।

এডি ব্যাংকগুলোর আমদানিকারক গ্রাহকদের পণ্য পরিবাহীর খরচ টাকায় অথবা সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রায় শিপিং বা এয়ার লাইসেন্স অথবা পণ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধের অনুরোধ জানাতে বলা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রায় খোলা এসব হিসাব শিপিংলাইন বা এয়ারলাইনস্ বা যোগ্য পণ্য পরিবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিমাসে অর্থ নগদায়নের হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব হিসাবের মাধ্যমে প্রতিমাসে বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ ও পরিশোধে তথ্য শিপিংলাইনস্, এয়ারলাইনসকে এডি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এছাড়া, অনুমোদিত পণ্য পরিবাহী প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে অর্থ সংগ্রহ ও বিতরণের তথ্য মাসিক ভিত্তিতে এডি ব্যাংকগুলোতে পাঠাতে হবে এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।