ভেঙে দেওয়া হয়েছে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের স্থাপনা

0
100
ctg.ship yard

ctg.ship yard সীতাকুণ্ড সাগর উপকূলে অবস্থিত দু’টি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার  দুইজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সোনাইছড়ি মৌজায় অবস্থিত  ইয়ার্ড দু’টির ভবন ভেঙে দিয়ে বন বিভাগকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছে আদালত। উদ্ধার হওয়া জায়গায় বন বিভাগের উদ্যোগে গাছের চারা রোপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে এস কে শিপ ব্রেকিং ও এস কে স্টীল নামে প্রতিষ্ঠানের দু’টি ভবন ভেঙে জায়গা উদ্ধার করে বন বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে বন বিভাগ উপকূলীয় গাছ কেটে ইয়ার্ড নির্মাণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানদুটির বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করে বন বিভাগ। এরই প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে ভূমি সচিব হাইকোর্টে মধ্য সোনাইছড়ি মৌজার ২৭টি দাগের প্রায় সাড়ে ছয় একর জায়গা বন বিভাগের দাবি করে রিট আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসাইনের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের ব্যাঞ্চ গত ৩০ জানুয়ারি উক্ত দাগের মধ্যে স্থাপিত স্থাপনা/ভবন ভেঙ্গে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বন বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যান্য বিচারপতিরা হলো, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, মোহাম্মদ আবদুল ওহাব মিয়া, মাহামুদ হোসেন ও এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী।

এই প্রেক্ষিতে সোমবার জেলা প্রশাসকের পক্ষে ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লা আল মামুন ও ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লা আরিফ মোহাম্মদ এস কে শিপ ইয়ার্ডের দু’টি বহুতল ভবন ভেঙ্গে ফেলে। তিনটি স্কেবেটর দিয়ে বন বিভাগের অর্ধশত শ্রমিক এই ভাঙার কাজ করে। তবে ভবনগুলো ভাঙতে কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিকে ইয়ার্ডটি স্থপনা ভেঙে ফেলার কারণে এই ইয়ার্ডে কর্মরত প্রায় শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। আবার এই ইয়ার্ডকে ঋণদানকারী দু’টি ব্যাংকও পড়েছে বিপদে।

ইয়ার্ডের মালিক নাজিম উদ্দিন জানান, আপিল বিভাগের রায়ে রিভিও আবেদন করা হলেও তা উপেক্ষা করে ইয়ার্ডের ভবনগুলো ভাঙা হয়েছে। আর ভবনগুলো যেখানে স্থাপিত তা ব্যক্তি মালিকানাধীন। বন বিভাগের জায়গা নয়। ভূমি সচিব ভুল তথ্য দিয়ে জায়গা তাদের দাবি করে তাদের পক্ষে রায় নিয়েছে। রিভিও শুনানী হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, বন বিভাগের জায়গা দখল করে ও বনের গাছ কেটে এখানে ইয়ার্ড করা হয়েছিল। উচ্চ আদালত বন বিভাগের জায়গা বুঝিয়ে দিতে বন বিভাগকে আর্দেশ দিয়েছে। এখানে পূর্বের ন্যায় বনায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লা আল মামুন জানান, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চট্টগ্রাম প্রশাসককে যে আর্দেশ দিয়েছেন আমরা পালন করছি। আদালতের নিদের্শেই বন বিভাগকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, প্রায় এক যুগ পূর্বে সীতাকু- সাগর উপকূলে মধ্যম সোনাইছড়ি মৌজায় স্থাপিত হয় ২০টির অধিক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড। পরবর্তীকালে জাহাজ ভাঙা জোন হিসাবে সরকারি গেজেট করে প্রতিটি ইয়ার্ডকে লিজ দেওয়া হয়। এ সকল ইয়ার্ডকে সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কোটি কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দিয়ে আসায় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড বেড়ে দাড়ায় শতাধিক ।  অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে উপকূলীয় বনাঞ্চল কেটে বাড়তে থাকে এ সকল পুরাতন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড। এ সকল ইয়ার্ডে পুরাতন জাহাজ আমদানি করা তা ভেঙে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন রি-রোলিং মিলে বিক্রি করা হয়।

সাকি/