বুলবুল-মিনুসহ বিএনপির ৩৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

0
117
menu_bulbul

menu_bulbulপুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা এবং বিস্ফোরক মামলায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও বিএনপির মহানগর কমিটির সাধারণ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ বিএনপির ৩৪ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা আত্মসমর্পণ ও জামিনের আবেদন করলে বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর এ নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানা যায়, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ১৮ দলের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলা হয়। এতে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই দিন সন্ধ্যায় সিদ্ধার্থকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ওই রাতেই রাসিকের বর্তমান মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির মহানগর কমিটির সেক্রেটারী শফিকুল হক মিলন, বিএনপির জেলা সভাপতি নাদিম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহীন শওকত খালেক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, মহানগর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে বোয়ালিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বিএনপির চার শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেন। ১৮ জানুয়ারি মামলাটি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।

সূত্র মতে, গত ২০ জানুয়ারি সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ শুনানি শেষে উভয় মামলার আসামিদের এক মাসের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। একই আদেশে বিচারপতিদ্বয় উভয় মামলার সকল আসামিকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার জন্য রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন জামিন শেষে আসামিদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদনের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, সিদ্ধার্থ হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গত ২৬ জানুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহীন শওকত খালেক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একই বেঞ্চ থেকে এক মাসের অন্তর্বতীকালীন জামিন পান।

সূত্র জানায়, সোমবার রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৩৬ নেতাকর্মী আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুমের মাধ্যমে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে জামিনের আবেদন করা সত্ত্বেও অসুস্থতা জনিত কারণে বিএনপি নেতা শাকিলুর রহমান ও খন্দকার মাসুদ রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালতে উপস্থিত ৩৪ জনের পক্ষে আইনজীবী মোজাম্মেল হক এবং এ্যাডভোটেক কামরুল মনিরসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী শুনানীতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ইব্রাহিম হোসেন ও কোর্ট ইন্সপেক্টর আবুল হাশেম আদালতে আসামীদের জামিনের বিরোধীতা করে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। উভয়পক্ষে শুনানী শেষে আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, উভয় মামলার আসামি রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতিসহ চারনেতা এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন সোমবার বিচারিক আদালতে জামিনের আবেদন করেন নি বলে জানা গেছে।