জবি শিক্ষার্থীদের তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

0
36
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়বেদখল হওয়া ছাত্রাবাস উদ্ধারের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় মঙ্গলবার ও বুধবার গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেবে বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে রোববার জবি ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ও বেদখলকৃত হল উদ্ধারের দাবিতে সোমাবার সকাল থেকে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন জবির হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী। সাথে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এ সময় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বিক্ষোভে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। দুপুর ১২টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জাতীয় ঈদগাহের সামনের সড়ক পর্যন্ত ধীরে ধীরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ সময় আন্দোলনের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করলে কয়েক প্লাটুন পুলিশ জলকামান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রস্তুত থাকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন থামবে না। যদিও পরে শিক্ষকদের অনুরোধে দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করে।

সমাবেশে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, হল উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। একই সাথে ডিসি হারুনের প্রত্যাহারও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি চলবে। বৃহস্পতিবার গণস্বাক্ষরের স্মারকলিপি শিক্ষামন্ত্রী বরাবর প্রদান করা হবে। তবে, প্রতিদিনের মত ধারাবহিকভাবে আন্দোলন চলবে। এরপর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের সোমবারের আন্দোলনেও পুলিশ বাধা দিয়েছে এমন অভিযোগ করলেন আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে অফিস করবেন এমন অযুহাত দেখিয়ে পুলিশ আজও আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাবে দায়িত্বরত ধানমণ্ডি থানার এসআই সাইফুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে অফিস করবেন। তাই এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না।’

তবে, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে অফিস করার অজুহাত দেখালেও অন্যান্য সংগঠনকে মানববন্ধনে কোনো ধরনের  বাধা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্দোলন চলাকালীন শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। অথচ সেখানে কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ।

আন্দোলন সম্পর্কে কথা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার শাহ অর্থসূচককে বলেন, পুলিশের হামলায় আহত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসার ব্যয়বার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বেদখলকৃত হল উদ্ধার ছাত্রদের প্রাণের দাবি। তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছে। পুলিশের এসব ঘৃণ্য হামলার প্রতিবাদ জানাই।

একই সাথে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সরকার আলী আক্কাস অর্থসূচককে বলেন, ছাত্রদের এ যোক্তিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকরা সংহতি প্রকাশ করেছে। হল উদ্ধারের এ আন্দোলনে আমরা আছি, থাকবো। ছাত্র-ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের হামলার নিন্দা প্রকাশের ভাষা আমাদের নেই।

তারা শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নয় শিক্ষকদের উপরও হামলা করেছে উল্লেখ করে এ হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়া আপনাদের এ আন্দোলন কতটুকু সফল হবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্লোগানকণ্যা খ্যাত লাকি আক্তার অর্থসূচককে বলেন, সাংগঠনিক কাঠামো না থাকলেও আন্দোলন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

জেইউ/এসএসআর