হলফনামার তথ্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল: রুহুল হক

0
33

ruhul haQচলতি ২০১৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় তার স্ত্রীর ব্যাংক স্থিতি ভুল ও অসাবধানতাবশত বেশি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক। আর এ ভুলের জন্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও চিকিৎসক সমাজের কাছে ক্ষমা চাইলেন তিনি। তবে তার বিষয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এড়িয়ে যান।

সোমবার দুপুরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ও হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আ ফ ম রুহুল হক।

এসময় তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় প্রদত্ত আমার স্ত্রীর জুলাই ২০১৩ সালে ব্যাংক স্থিতি ভুলবশত ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ৯২ টাকার পরিবর্তে ৭ কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৯২ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে জেলা রিটার্নির অফিসারের কাছে আবেদন করে সংশোধন করা হয়েছে। আমি এ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও চিকিৎসক সমাজের কাছে ক্ষমা চাই। বাংলাদেশের একজন নাগরিক ও সংসদ সদস্য হিসেবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দুদককে আমি সাহায্য করবো। আমার বিশ্বাস ন্যায় ও নৈতিকতার জয় হবে।

এরআগে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ও হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম  তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এ জিজ্ঞাসাবাদ চলে।

দুদক সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক। তার ব্যাংক ব্যালেন্স গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। ব্যাংক ব্যালেন্সের অধিকাংশ তার স্ত্রী ইলা হকের নামে। পাঁচ বছর আগে নির্বাচনী মাঠে নামার সময় রুহুল হক এবং তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকা ছিল ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ টাকা। এখন তাদের ব্যাংক ব্যালেন্সের পরিমাণ ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৩ টাকা। ২০০৮ সালে স্ত্রী ইলা হকের নামে ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল মাত্র চার লাখ ৬৪ হাজার ৩০ টাকা। এখন সাত কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার প্রায় ১৬৫ গুণ। অন্যদিকে রুহুল হকের ব্যাংক ব্যালেন্স ২০০৮ সালে ছিল প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় দুই কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

নির্বাচন কমিশনে প্রদেয় হলফনামা অনুসারে, সামগ্রিকভাবে ২০০৮ সালের তুলনায় তার অস্থাবর সম্পদ ৪ গুণ বেড়েছে। ২০০৮ সালে তিনি এবং তার স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল চার কোটি টাকার কিছু বেশি। ২০১৩ সালে সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স হিসাবে রাখা আছে। এককভাবে তার স্ত্রী ইলা হকের সম্পদের পরিমাণ বেড়ে গেছে ৮ গুণ। আগে তার নামে অস্থাবর সম্পত্তি ছিল মোট ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের। এখন তা আট কোটি ৩৯ লাখ ছাড়িয়েছে।

এর আগে রুহুল হক ও তার স্ত্রীর সম্পদের বিবরণের তথ্য চেয়ে এনবিআর ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে দুদক।

এইউ নয়ন