ট্রাজেডির এক বছর হওয়ার আগেই ক্ষতিপূরণ দাবি

0
53

rana2ট্রাজেডির এক বছর হওয়ার আগেই অর্থাৎ ২৪ এপ্রিলের মধ্যে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন হতাহত শ্রমিকের স্বজনরা।সেই সাথে রানা প্লাজা থেকে পোশাক কেনা ২৯  ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে এই সহায়তা দেওয়া জন্য এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এক মানববন্ধনে স্বজনেরা এই দাবি করেন।

জাতীয় গার্মন্টেস শ্রমিক ফেডারেশন ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম একটি মানব বন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে স্বজনেরা বলেন, ঘটনার ১০ মাস পরও তারা ক্ষতিপূরণ পায়নি। অনেকে আবার সন্তানের লাশটাও ফিরে পায়নি বলে অভিযোগ করেন।

এই অবস্থায় হতাহত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানান তারা।

রানা প্লাজার ৫টি কারখানায় পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট, টেক্সম্যান, পিডব্লিউটি গ্রুপ, এনকেডি, ম্যাংগো, জেসিপেনি, গোল্ডেনপি ফেনিং, এলপিপি, ইসেনজা, কেয়ারফোর, সিঅ্যান্ডএ, ক্যাটোকোপ, চিল্ড্রেন প্লেস, বেনিটোন, আদিয়ার, আউচান, ড্রেসহার্ন, মেনিফাটুরা করোনা, প্রিমিয়ার ক্লোথিং, কিডস্ ফ্যাশন, প্রাইমার্ক, স্টোর-২১, মাস্কট, মাটালান, এল কোর্টে ইনগিস, কিক, লবলো, বন মারচে, ক্যামিউসহ সরকার, বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার দাবি জানান তারা।

সংগঠনটির সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, ১১৩৯ জন নিহত ও ১৫ শতাধিক আহত শ্রমিকদের ১০ মাসেও কোনো সহায়তা মিলেনি। মানবেতর জীবন যাপন করছে এই অসহায় শ্রমিক পরিবার। আহত অনেকের এখনও চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই তাদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসাসহ পুনর্বাসনের জন্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারও বিজিএমইএকে এগিয়ে আসার দাবি জানান।

মানববন্ধনে শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, দূর্ঘটনার পর এতো দিন পার হলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পায়নি।প্রিয় মানুষের লাশটা না পেয়ে বহু স্বজন এখনও দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বলে জানান তিনি।ফলে অসহয়ভাবে জীবন অতিবাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি এই শ্র্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ পুনর্বাসনের দাবি করেন। আর এর জন্য তিনি ২৯টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার দাবি জানান।

বক্তারা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)সহ সব পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত ‘রানা প্লাজা কমপেনসেশন অ্যারেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটিং কমিটি’ শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্তদের ‘লস অব আর্নিং’এর ভিত্তিতে নিহতদের কমপক্ষে ২৮ লাখ ও আহতদের ৫ টাকা হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

সংগঠনটির সভাপতি আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।