দূষণের মধ্যে বাস করছেন রাণী এলিজাবেথ

0
34

Buckingham_Palaceরাস্তায় নোংরা আবর্জনা ভর্তি। বাতাসেও দুর্গন্ধের আশ। দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন লোকজন। রাস্তা থেকে আসছে গাড়ির ক্ষতিকর নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড। সেই সাথে ময়লা ধুলা। এমনই এক দূষণময় পরিবেশ যুক্তরাজ্যের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বার্কিংহাম প্রাসাদের আশেপাশে।  আর এ জন্যই সম্প্রতি সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রাণী এলিজাবেথ বিট্রেনের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের মধ্য বসবাস করেন।

যুক্তরাজ্যের পরিবেশ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় (ডেফরা) জানিয়েছে, লন্ডনের অধিকাংশ রাস্তায় মাত্রাতিরিক্তভাবে দুষণের কারণে প্রতি বছর দেশটির শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্রগুলো হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাতাসের প্রতি ঘনমিটারে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম নাইট্রোজেন-ডাই অক্সাইড রয়েছে। এর মধ্যে মাদাম তুসো জাদুঘরের কাছাকাছি মেরিলিবন রোডের চৌরাস্তা এলাকায় রয়েছে মোট ৫০ টি রাস্তা। এই রাস্তাগুলোতে তুলনামুলকভাবে গাড়ি চলাচল বেশি করায় তা থেকে এই বিষাক্ত গ্যাস বের সবচেয়ে বেশি।

পরিবেশবাদী সংস্থা ‘ক্লিন এয়ার’ এর পরিচালক সাইমন বিরকিত জানান, প্রতিবছরে এই বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছেন লাখ-লাখ পর্যটক ও লন্ডনবাসী। এর ফলে তারা বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

যুক্তরাজ্যের পরিবেশবাদী সংস্থা সূত্র জানিয়েছে,  ১৯৫২ সালের ১ লা জুন যখন রাণী ক্ষমতায় আসেন তখনও লন্ডনের বার্কিংহামের আশে পাশের অবস্থা ছিল বড়ই শোচনীয়। গাড়ির কালো ধুয়ায় এখানকার বাতাসে মিশে থাকতো বিষাক্ত গ্যাস। ক্ষমতায় আসার ৬০ বছর পরেও প্রতি বছরে  লন্ডনে বায়ু দূষন বেড়েই চলেছে। এর ফলে বায়ু দূষণের প্রভাবে মৃত্যুহারও বেড়ে যাচ্ছে। তবে এই অবস্থা বেশিদিন বিরাজ করলে এই এলাকার লোকজন অতিশিগগরই আরও স্বাস্থ্যঝুকিতে ভুগবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন সংস্থাটির একজন উকিল  অ্যালান এন্ড্রিয়।

এদিকে, লন্ডনের সিটি মেয়র বরিস জনসন বলেন, ২০০৮ সালে যখন তিনি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। তার তুলনায় এখন নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড এর মাত্রাটা অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, তারা বায়ুর গুণগতমানের উন্নতি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যুক্তরাজ্যর অধিকাংশ এলাকা সমস্ত দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে প্রায়ই হার্ট অ্যাটাক ঘটনা ঘটে এবং এতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যখন হৃদযন্ত্রের পেশী দুর্বল হওয়ার কারণে শরীরজুড়ে রক্ত সঞ্চালনের এর কাজটি ঠিকমতো করতে পারেনা, তখন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

এস রহমান/