ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কোনো লেনদেন নয়

0
90
bangladesh bank

bangladesh bankব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কোনো লেনদেন করা যাবে না। তাছাড়া ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা তার স্বার্থের অনুকূলে সম্পাদিত সকল আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্টের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এক্ষত্রে ওই ব্যক্তি তার মূলধনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নির্দেশটি অনতিবিলম্বে তফসিলভুক্ত সকল ব্যাংকে পরিপালন করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০১৩ (সংশোধিত) অনুসারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানির তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের আস্থাঅর্জন ও বজায় রাখার লক্ষ্যে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে সম্পাদিত লেনদেন সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায় স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য এ নির্দেশনা জারি করা হযেছে বলে প্রজ্ঞাপন উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেন বলতে ঋণ ও অগ্রিম প্রদান, ঋণপত্র ইস্যু, গ্যারান্টি এবং অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা ও অঙ্গীকার প্রদান, দ্রব্য, সেবা ও স্থাবর সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়, স্থাবর সম্পত্তি লিজ বা ভাড়া প্রদান ও গ্রহণ করাকে বুঝাবে।

‘উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক’ বলতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একক বা অন্যের সাথে যৌথভাবে কোনো কোম্পানির মালিকানা স্বত্বের শতকরা পাঁচ ভাগের অধিক শেয়ার ধারণকে বুঝাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিচালকের ঋণ সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানীর পরিচালক, তার আত্মীয়স্বজন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ ও অগ্রীম, এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী পরিপালনের পাশাপাশি আরও কিছু নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে। পরিচালকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান-এর অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য ঋণসুবিধার মোট পরিমাণ ওই পরিচালকের নিজ নামে ধারণকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারের পরিশোধিত মূল্যের ৫০ শতাংশের বেশি হবে না।  এক্ষেত্রে, কোনো পাবলিক কোম্পানিতে ব্যাংকের পরিচালক যে পরিমাণ (শতাংশ) শেয়ার ধারণ করেন সেই অনুপাতে ব্যাংক ঋণ পরিচালকের ঋণ হিসেবে গণ্য হবে।

আর বর্তমানে ওই ব্যাংকে কোন পরিচালকের শেয়ার ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য ঋণসুবিধা নেওয়া থাকলে এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার তারিখে তা পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। এবং তা বাংলাদেশ ব্যাংকে অবহিত করতে হবে।  বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যে পরিচালকের প্রাপ্যতার অতিরিক্ত সুবিধা পরিশোধ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরিচালক তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তার অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানি ও পাবলিক কোম্পানি, জামিনদাতা হিসেবে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে সকল প্রকার ঋণসুবিধা, গ্যারান্টি এবং অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

ব্যাংক পরিচালক তাদের উক্তরূপ আত্মীয়স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এর অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন বার্ষিক সাধারণ সভা কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে এবং ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।

পরিচালক তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তার অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানি ও পাবলিক কোম্পানি এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কণ্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে প্রত্যক্ষ ঋণ ৫০ লাখ টাকা বা ততোধিক এবং প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার সমন্বয়ে মোট ১০০ লাখ টাকা বা ততোধিক প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। পূর্বানুমোদনের জন্য এতদসঙ্গে সংযোজিত ছক অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরে আবেদন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করতে হবে।