গ্যাসক্ষেত্র মার্কিন-ভারতীয়দের কাছে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে

0
155
khalekujjaman
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. খালেকুজ্জামান

khalekujjamanবাংলাদেশের সমুদ্রের গ্যাসক্ষেত্র মার্কিন-ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের কাছে অবৈধভাবে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন বাসদ সাধারণ-সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) আয়োজিত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা, সমুদ্রের গ্যাসক্ষেত্র মার্কিন-ভারতীয় কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদ সমাবেশে এ অভিযোগ করা হয়।

সমাবেশে খালেকুজ্জামান বলেন, মহাজোট সরকার আমলে ৬ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আবারও বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে সরকার। একই সাথে গ্যাসের দাম বাড়ানোরও পাঁয়তারা করছে এই সরকার।

পিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এখনো ৩ টাকার নিচে। অথচ গ্রাহক পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে ৬ টাকা সরকারে বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষায় সরকার রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল থেকে প্রতি ইউনিট ১৪-১৮ টাকায় কিনছে।

ক্ষুদ্র একটা গোষ্ঠীর অঢেল মুনাফা লাভের দায় পুরোটাই গ্রাহককে বহন করতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করায় রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তূকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এর পরামর্শ ও ঋণ পাওয়ার শর্তে পুরনো কেন্দ্রগুলো মেরামত এবং স্বল্প মেয়াদী ও গ্যাস ভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিমার্ণে সরকার ভর্তূকি সংকুচিত করেছে। এতে বারবার দাম বাড়ানোয় তা জনগণের ঘাড়ে ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে বোরো চাষে খরচ বাড়বে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়বে। এতে কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও চরম বিপাকে পড়বে।

জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সরকার শেভরন, কানকো, ফিলিপসের পর ভারতীয় ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড ও ওয়েল ইন্ডিয়ার সাথে চুক্তি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গ্যাস নিয়ে খালেকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, সরকার ২০১২ সালে ওএনজিসির সাথে সাগরের এসএস-৪ ও এসএস-৯ নং গ্যাস ব্লক ইজারা চুক্তি করে।

এতে গ্যাস রপ্তানির বিধান রাখা হয়। পরে আন্দোলনের ফলে তা সংশোধন করা হয়। তা পিএসসি-২০০৮ এর চেয়েও ক্ষতিকর।

বর্তমান চুক্তিতে গ্যাসের ক্রয়মূল্য ২০০৮ এর ২.৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬.৫ ডলার করা হয়েছে বলে জানান বাসদের এই নেতা।

তিনি বলেন, প্রতিবছর গ্যাসের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, কষ্ট রিকভারি সময়কালে কোম্পানির মালিকানা ৫৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা ও ইচ্ছে মতো দামে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির শর্ত জুড়ে দিয়ে বাস্তবে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে খালেকুজ্জামান বলেন, ওএনজিসি ১৩ বছরে সাগরের গ্যাস অনুসন্ধান ক্ষমতা অর্জন করলেও ৪২ বছরেও বাপেক্স জাতীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারলো না কেন। এটি সরকারগুলোর চরম ব্যর্থতা বলে দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে জাতীয় সক্ষমতা অর্জন করে বাপেক্স এর মাধ্যমে তেল, গ্যাস উত্তোলনে সরকারে হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

দেশ বিরোধী এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসলে এর প্রতিবাদে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেন তিনি। সমাবেশ শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহিদুল হক মিলু, জুলফিকার আলী প্রমূখ।

জেইউ