পায়ে হেঁটে বিশ্ব রেকর্ড করার পথে বাংলাদেশের মেয়ে রুমা

0
218

walking_rumaপায়ে হেঁটে বিশ্ব রেকর্ড করতে কলকাতা প্রেসক্লাব থেকে ঢাকা প্রেসক্লাব পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়ে রুমা।

গত ২ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৪ টায় কলকাতা প্রেসক্লাব থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পায়ে হেটে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রুমা। ১৯ ফেব্রুয়ারী বিকেল চারটায় দীর্ঘ নয়দিন হেঁটে ঢাকা প্রেসক্লাবে পৌঁছান তিনি।

রোববার বেলা ১২ টায় ঢাকা  ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রুমা বলেন, বাংলাদেশের যানজট বড় ধরনের সমস্যা। একারণে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হয়। এজন্য অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনা। মানুষ পায়ে হাঁটার অভ্যাস করলে নির্ধারিত সময়ে তার গন্তব্যে পৌছাতে পারবে।

পায়ে হেঁটে পথ চললে মূল্যবান সময় ও অর্থ বাঁচানো যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ হেঁটে পথ চললে অতিরিক্ত যাবাহনের প্রয়োজন হবে না। এর ফলে শব্দ ও বায়ু দূষণ সর্বোপরি পরিবেশ দূষণ রোধ করাও সম্ভব।

এছাড়া হাঁটা স্বাস্থের পক্ষে ভাল। প্রতি দিন অন্তত তিন ঘন্টা পায়ে হাঁটা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের রেকর্ডের ঝুড়িতে আমি একটি রেকর্ড রাখতে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ তা নিয়ে বিশ্বদরবারে গর্ব করতে পারে।  তাই সময় উপোযোগী ও পরিবেশ বান্ধব ইস্যু নিয়ে পায়ে হেঁটে আন্তর্জাতিক সিমানা অতিক্রম করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে আসার সিন্ধান্ত নিলাম।

পরবর্তী মিশন কোথায় জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সার্কভূক্ত সবগুলো দেশে তিনি পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করবেন।

এ সময় তিনি পায়ে হাঁটার জন্য মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করতে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে ম্যারাথন চালু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহরে বসবাসরত ছেলে-মেয়েদের অনেক ধরণের খেলাধুলা রয়েছে। কিন্তু পল্লীর  দরিদ্র ছেলে-মেয়েরা এসব খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনা। তাই ম্যারাথনকে জাতীয় খেলার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হলে গরীব মেধাবী ছেলেমেয়েরা এসব খেলাধুলার সুযোগ পাবে এবং হাটার প্রতি সবার আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে রুমা বলেন, কেউ কারো আশায় বসে না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের সমস্যা নিরসনে কাজ করলে দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মেহেদী হাসান ও রুমার বড় বোন আলেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/