হলের দাবিতে রণক্ষেত্র জগন্নাথ

0
81
জগন্নাথে হলের দাবিতে সংঘর্ষ
ছবি: ফাইল ছবি

জগন্নাথে হলের দাবিতে সংঘর্ষ‘হল চাই, হল চাই, হল চাই’, ‘জ্বালো, জ্বালো… আগুন জ্বালো’, ‘মেসে আর থাকবো না, হল আমাদের ঠিকানা’,  ‘আমাদের হল ফিরিয়ে দাও’ ইত্যাদি শ্লোগানে শ্লোগানে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ মূলত বেদখল হওয়া তিব্বত হল উদ্ধারের অভিযানে নেমে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ এখনও চলছে।

আজকের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহত হয়েছেন একাধিক শিক্ষকও।আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

এদিকে পুলিশের তরফ থেকেও তাদের ১০ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায় সকালে ইসলামপুরের তিব্বত হল উদ্ধারের শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল মার্কেটের দিকে রওনা মিছিল নিয়ে আগায়। কিন্তু সদরঘাট রোডে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুরিশের একটি ব্যরিকেড ভেঙ্গে এগিয়ে যায়। এরপরই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে।

গত প্রায় দশদিন ধরে তিব্বত হলসহ বেদখলকৃত ৯ টি হল উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি দখলবাজরা দীর্ঘ ২৯ বছর যাবত যে হল দখল করে আছে সে হল তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জবি ছাত্রলীগের নেতারা। আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন নীল দল ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মকর্তা সমিতি নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচির জন্য প্রচারণাও চালানো হয়। ফেসবুক পেজের ওই পোস্টে বলা হয়,  ‘আসছে আগামীকাল, কাঁপবে পুরান ঢাকা, কলঙ্ক ঘোচাবে জগন্নাথ নতুন এক ইতিহাস গড়বে । তাজা প্রান রাজপথে ঢেলে দিব তবু হল না নিয়ে বাড়ি ফিরব না এ জন্যে সকলের পূর্ণ সমর্থন চাই। যোগদিন আগামীকালের হল দখলের মহাআন্দোলনে।’

গতকাল ওই পৃষ্ঠায় জানানো হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরসব হল দখলমুক্ত করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতারা।

শনিবার প্রগতিশীল ছাত্রজোটের প্যাডে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “বেদখল হওয়া সব হল ও সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে যে আন্দোলন চলছে তাকে আমরা সমর্থন জানাই।”

অবিলম্বে দাবি মেনে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টকর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়েরসম্পত্তি বছরের পর বছর কিছু ভূমিদস্যুর দখলে থাকবে তা মেনে নেয়া যায় না। হলগুলো দখল থাকায় শিক্ষার্থীদের বাসা ভাড়া করে বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে।হল ও সম্পত্তি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তারা।

সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে মুশতাক হোসেন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাগীব আহসান মুন্না, রাজেকুজ্জামান রতন, আসলাম খান, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সাব্বাহ আলী খান, হাসান তারিক চৌধুরী, শরিফুজ্জামান শরিফ, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মানবেন্দ্র দেব বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

এদিকে এই সংঘর্ষের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বন্ধ রয়েছে সদরঘাট-গুলিস্তান সড়ক। এতে করে সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।