রানা প্লাজার কর্মীদের ক্ষতিপূরণে ৪ কোটি ডলারের তহবিল

0
34
industry all global union jerk

industry all global union jerkরানা প্লাজার কর্মীদের ক্ষতি পূরণ দিতে ৪ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছে ইন্ডাস্ট্রি অল গ্লোবাল ইউনিয়ন। এই তহবিলের সব অর্থ রানা প্লাজার কর্মীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।

শনিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারস্থ হোটেল লা ভিঞ্চিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংগঠনটির মহাসচিব ইওর্কি রায়না এই কথা বলেন।

ইওর্কি রায়না বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় এই খাতকে আরও বেশি আলোচিত করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাগুলোও তাদের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে চলছে। আর গত ডিসেস্বর মাসে ৪ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল গঠন স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

আর বিদেশি ক্রেতাদের এই তহবিল সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি। তবে রানা প্লাজার ক্রেতারা তাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী জরুরীভাবে তহবিলে অর্থ জমা দেবেন বলে জানান তিনি। যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অ্যাকর্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যেখানে কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা এবং শ্রমিক সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ কারখানা স্থানান্তরের কাজ ৫ বছরের সধ্যে শেষ করবে। তাছাড়া ২ বছর তারা তাদের অর্ডার কমাতে পারবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি। ‘৫৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধি পোশাকখাতে প্রথম পদক্ষেপ’। তিনি বলেন, পোশাক খাতে অন্যান্য দেশের কর্মীরা আরও বেশি মজুরি পাচ্ছে। বাংলাদেশকেও ধাপে ধাপে কর্মীদের মজুরি  আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। এটা পোশাকশিল্পে একটা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তিনি নতুনভাবে নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, একে কার্যকর ইউনিয়নে পরিণত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংস্থাটির চেয়ার নজরুল ইসলাম খান বলেন, ক্রেতারা দুই বছর তাদের চাহিদা কমাবে না বলে নিশ্চিত করেছেন। এটা পোশাক শিল্পের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি।

মূলত তৈরি পোশাক খাত রক্ষা, এর ক্রম বিকাশ, শ্রমিকদের বিভিন্ন অধিকার আদায়, নিরাপত্তার পক্ষে বিশ্ব জনমতকে একত্রিত করা। কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে কারখানাগুলো মানউন্নয়ন ও শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউরোপের ক্রেতা জোট অ্যাকর্ডের সদস্য হিসেবেও কাজ করছে সংস্থাটি। তাছাড়া সংস্থাটির সারা বিশ্বের ১৪০ দেশে ৫ কোটি সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি সুদর্শন রাও সার্দে ও বাংলাদেশে সংস্থাটির মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র উপস্থিত ছিলেন।