অবিলম্বে নির্বাচন না দিলে দেশের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে

0
54
rafikul islam miah
মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে মঞ্চে বিএনপি নেতার

rafikul islam miahঅবিলম্বে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না দিলে দেশের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মাহমুদুর রহমানের লেখা ‘মুসলমানের মানবধিকার থাকতে নেই’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব আয়োজিত অনষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় ইসলামী টিভি, দিগন্ত টিভি ও আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ কেন এবং মাহমুদুর রহমান জেলে কেন এসব প্রশ্ন রেখে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি তো এসবের জবাব দিতে পারবেন না। কারণ সত্য প্রকাশ হলে তো আপনার অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হবে। তাই এসব গণমাধ্যম বন্ধ করে স্বৈরশাসকের ভূমিকা নিয়েছেন।

দেশব্যাপী গুম ও গুলি করে অসংখ্য নিরীহ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে যা বিচারবর্হিভূত এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শুধু সরকার নয় এসব হত্যার সাথে জড়িত যৌথবাহিনীকেও বিচারের কাট গড়ায় দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান তথা সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হলে সরকার মানবাধিকারের কথা উচ্চারণ করে। আর এসব দায় বিরুধীদলের উপর চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেয়। কিন্তু অসংখ্য মুসলমানকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হলেও মানবাধিকার বিষয়ে তখন সরকার চুপ থাকে।

ডিএমপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পুলিশের গায়ে হাত দেওয়া তো দূরের কথা,  ডিএমপি যদি প্রমাণ করতে পারে যে, আমি কোনো পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছি তাহলে আর রাজনীতি করবো না।

অনুষ্ঠানে লেখক, গবেষক ফরহাদ মাজহার বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আইনের বাইরে কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না। কিন্তু বিরোধীদের দমন করার লক্ষে নতুন নতুন আইন করা হচ্ছে। এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এ সময় তিনি বিএনপিরও সমালোচনা করে বলেন, দলটির ব্যর্থতার প্রধান কারণ হলো কাকে সাম্প্রদায়িকতা বলে এবং তা কী এসব বিষয়ে  তারা কেউ স্পষ্টভাবে জনগণকে বুঝতে পারে না। অস্পষ্টতা মারাত্মক ক্ষতি। বিএনপিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। সবদলেই সাম্প্রদায়িকতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মতাদর্শক ঐক্য হওয়া দরকার উল্লেখ করে বিএনপির উদ্দেশ্যে ফরহাদ বলেন, জামায়াত, হেফাজত যেটাই হোক না কেন সবাইকে নিয়ে মতাদর্শক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের মধ্য সমন্বয় করে খালেদা জিয়াকে শক্তিশালী করে আন্দোলন করতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে কোনো সফলতা পাওয়ার সম্ভবনা নেই।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি খন্দকার মাহবুবু হোসেন বলেন, মাহমুদুর রহামান মুক্তি পাওয়ার পর যদি আবার গুম হয়ে যায় তাহলে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী তার জানাজা পড়ার সুযোগও এই সরকার দিবেনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচায্য অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন বলেন, আমরা জানি না মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করার জন্য কার কাছে আবেদন করবো। আর আবেদন করা ঠিক হবে কিনা তাও জানি না। তবে জনগণ একদিন জেগে ওঠবে। সেদিন হয়তো জেলের তালা ভেঙ্গে তাকে মুক্ত করবে জনগণ।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, দুই বিষয়ে সংঙ্কট ঘিরে ধরেছে সবাইকে। এক ধর্ম দুই নম্বর হলো মুসলিম। এসময় তিনি অভিযোগ করেন বিভিন্ন ওয়েব সাইট, সংবাদপত্র, ব্লগ, কালো টেলিফোন বন্ধ করে সরকার পুলিশি শাষণ কায়েম করছে।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মহসিন আলী, ঢাবি অধ্যাপক আকতার হোসেন প্রমুখ।

জেইউ