পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিংয়ে ব্যয় ২৯ শতাংশ

0
128
IBBL Tower

IBBL Towerসদ্য বিদায় নেওয়া বছরে পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিংয়ে ব্যয় করেছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। যা এ খাতের মোট বরাদ্দের মাত্র ২৯ শতাংশ। ২০১৩ সালের জন্য এ খাতে ব্যাংকগুলো মোট বরাদ্দ রেখেছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। পরিবেশবান্ধব ব্যাংকংসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তপক্ষ দাবি করছে, প্রথম বছরেই ২৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা অনেক বেশি সাফল্যের। দিন দিন এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে গ্রিন ফাইন্যান্স, জলবায়ু ঝুঁকিসংক্রান্ত তহবিল, বাজার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত তহবিলে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এর বিপরীতে আলোচ্য সময়ে এসব খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলো পরিবেশবান্ধব খাতে ৩ হাজার ৯১৫ কোটি, জলবায়ুগত ঝুঁকি খাতে ৯৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত খাতে ৮৬ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। এর বিপরীতে এসব খাতে ১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

এ সময়ে রাষ্ট্রীয় বিশেষায়িত খাতের ব্যাংক একত্রে ৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও কেবল পরিবেশবান্ধব খাতেই ব্যয় করেছে ১ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।

ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো পরিবেশবান্ধব খাতে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২৪ কোটি, জলবায়ু ঝুঁকিগত খাতে ৫৪০ কোটি ও বাজার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত খাতে বরাদ্দ রেখেছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আলোচ্য সময় পর্যন্ত এ তিন খাতে অর্থবরাদ্দ দিয়েছে ৮৬ হাজার ১৪৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

একই সময়ে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো ৮০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বার্ষিক অর্থ বরাদ্দের বিপরীতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে ১৭ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন সবচেয়ে বড় এজেন্ডা হচ্ছে ব্যাংক ব্যবস্থাকে গ্রিন ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা। এ লক্ষ্যেই এতসব আয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বর্তমানে গ্রিন ব্যাংকিংকে খুব দৃঢ়তার সঙ্গে নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিগগিরই কৃষি খাতের মতো গ্রিন ব্যাংকিং খাতেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সর্বনিম্ন বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিজস্ব গ্রিন ব্যাংকিং পলিসি ও গ্রিন ব্যাংকিং ইউনিট এ খাতে বরাদ্দ করেছে। এছাড়া, অর্থায়ন এবং অর্থায়িত প্রকল্পগুলোর পরিবেশগত ঝুঁকি নিরূপণ করেছে। ব্যাংকগুলো সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি ও ইটিপি সংযুক্ত প্রকল্প, পরিবেশবান্ধব ভবন, পরিবহন ব্যবস্থা, পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে নতুন তালিকা তৈরি করছে। এতে দেখা গেছে, সবকটি ব্যাংক গ্রিন ব্যাংকিং ইউনিট গঠন ও নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এসএই