অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ব্রেক্সিট: ঢাকা চেম্বার

অর্থসূচক ডেস্ক

0
98
Bangladesh-Garments
তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা।

ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) হতে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ প্রত্যাহারের গণ রায়ের সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি মনে করে, ব্রিটেনবাসীর এ সিদ্ধান্ত (ব্রেক্সিট) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আজ শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ব্রিটেনবাসীর এ রায় ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যেটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ইউরোপের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের চলমান অগ্রগতির ধারাকে ব্যাহত করতে পারে। যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত সারাবিশ্বে নতুন একটি ভূ-রাজনৈতিক ধারার পাশাপাশি একটি ভূ-অর্থনৈতিক ধারা সৃষ্টি করতে পারে। Bangladesh-Garments

বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির বৃহৎ বাজারের একটি হলো ইউরোপ। এছাড়াও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের মূল্যমানের পণ্য যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়, যেখানে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ২.৯ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ অপ্রচলিত পণ্যও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়ে থাকে।

ডিসিসিআই উদ্বেগের সাথে মনে করে, বেক্সিট-এর ধাক্কা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার আওতায় পণ্য রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ধারাকে প্রভাবিত করবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যুক্তরাজ্য কর্তৃক বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচীর কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ঢাকা চেম্বার আরও মনে করে, বেক্সিটের ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রবণতা ও মন্দা অবস্থার সম্ভাবনা রয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রার সাথে পাউন্ড-এর বিনিময় হার কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। যদিও ইতোমধ্যে ডলারের বিপরীতে পাউন্ড ১০% এবং ইউরোর বিপরীতে ৩% কমেছে, যেটির ধারা বাংলাদেশকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনাকে আরো ঘনীভূত করবে।

ডলারের বিপরীতে পাউন্ড স্টারলিং ও ইউরো’র অবমূল্যায়ন বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মন্দা প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ৫৫ শতাংশ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ও ১২ শতাংশ যুক্তরাজ্যে গিয়ে থাকে। ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের এ অবমূল্যায়ন বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহে মন্দাবস্থা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ইইউ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তাতেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

ডিসিসিআই সরকারের প্রতি বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়ে এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারণ করে যুক্তরাজ্যের সাথে কূটনৈতিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা মধ্যস্থতার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। ডিসিসিআই বৃটেনের ইইউ ত্যাগ পরবর্তী আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সংগঠন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপযুক্ত প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ।