কর জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে চার অপারেটর
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টেক

কর জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে চার অপারেটর

sim replacement tax nbr grameenphone banglalink robiসিম প্রতিস্থাপন ইস্যুতে ৩ হাজার কোটি টাকার কর-জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রীর  হস্তক্ষেপ চেয়েছে চার মোবাইল ফোন অপারেটর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গঠিত পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্ট অপারেটর চারটির মন:পুত না হওয়ায় তারা অর্থমন্ত্ররীর শরনাপন্ন হয়েছে। গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তার সহায়তা চাওয়া হয়। অপারেটর চারটি হচ্ছে-গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল।

দীর্ঘদিন ধরে অপারেটর চারটির সঙ্গে এনবিআরের কর-বিরোধ চলছে। ২০১২ সালে চারটি মোবাইল কোম্পানির কাছ থেকে সিম প্রতিস্থাপন কর বাবদ ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা দাবি করে এনবিআর। এ দাবির পক্ষে এনবিআরের যুক্তি ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এসব কোম্পানি সিম রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নতুন গ্রাহকদের কাছে পুরনো সিম বিক্রি করে। আর এনবিআর আইন অনুযায়ী নতুন গ্রাহকদের কাছে সিম বিক্রি করা হলে সিমের ওপর আরোপিত নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিতে হবে। এনবিআরের যুক্তি মানতে নারাজ মোবাইল কোম্পানিগুলো। তারা বলছে, নতুন কোনো গ্রাহকের কাছে তারা সিম বিক্রি করেনি।

কর-জটিলতা নিরসনে আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি একাধিক আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ও চার অপারেটরের  প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তো এতেও জটিলতার অবসান হয় নি। কমিটি সর্বসম্মত কোনো রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। রিপোর্ট বিটিআরসি ও চার অপারেটরের প্রতিনিধিরা সই করেনি। তাদের সই ছাড়াই কমিটির প্রধান রিপোর্ট জমা দেয়।

এমন অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চার অপারেটর। চিঠিতে  কমিটির রিপোর্টকে এক পাক্ষিক বলে অভিযোগ করা হয়। থ্রিজি ফোনের নিলাম হয়ে যাওয়ার পর এনবিআর একতরফাভাবে কমিটির টার্মস অব রেফারেন্স পরিবর্তন করে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

উল্লেখ, কমিটির রিপোর্টে এনবিআরের দাবি ৩ হাজার ৬২ কোটি টাকা থেকে ৫২ কোটি টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা করা হয়। এদের মধ্যে গ্রামীণফোনের কর ১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। বাংলালিংকের কর ৭৭৪ কোটি টাকা থেকে ৭৬২ কোটি টাকা,  রবির কর ৬৫৫ কোটি টাকা থেকে ৬৪৭ কোটি টাকা এবং এয়ারটেলের কর ৫২ কোটি টাকা থেক ৩৯ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়। এ হিসাব মানতে রাজী নয় চার অপারেটর।

জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর বিটিআরসি ও চার অপারেটরের স্বাক্ষর ছাড়াই রিপোর্ট জমা দেন কমিটির প্রধান এনবিরের কমিশনার আল আমিন প্রামাণিক। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিগুলো আরও কম ট্যাক্সের দাবি করলেও তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ