বাড়ছে অপরিশোধিত বিল, শঙ্কিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

বাড়ছে অপরিশোধিত বিল, শঙ্কিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকদিন দিন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অপরিশোধিত স্বীকৃত বিলের মেয়াদোত্তীর্ণের পরিমাণ বাড়ছে। আর এ কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকের গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশনের ৭ অধ্যায়ের ২৯ ধারা অনুযায়ী, বিল অব এন্ট্রি ৪ মাসের মধ্যে জমা দিতে হয়। আর গাইডলাইনসের ৮ অধ্যায়ের ১৩ ধারা অনুযায়ী, পণ্য জাহাজীকরণের বিপরীতে জাহাজীকরণের তারিখ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মূল্য ফেরত দিতে হয়। কিন্তু অনেক ব্যাংক এ নীতিমালা মানছে না। এতে করে আমদানির বিপরীতে মূল্য পরিশোধের বিষয়ে পণ্য দেশে প্রবেশের নিশ্চয়তা মিলছে না।

তারা আরও বলেন, অলসতার কারণেই মূলত এমন অনিয়মে জড়িয়ে যাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যাংকিং খাতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তারা। এর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বিল পরিশোধের জন্য ব্যাংকগুলোকে চাপ দিতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানান তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের জনতা ব্যাংকের জনতা শাখায় ৫.২৫ মিলিয়ন, বেসরকারি খাতের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উত্তরা শাখার ৩.৫৪ মিলিয়ন, পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ৪.৪৭ মিলিয়ন এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ২.২৭ মিলিয়ন ডলার অপরিশোদিত স্বীকৃত বিল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর বাইরেও এ ধরনের অনিয়মে জড়িত আরও কিছু ব্যাংকের নাম শোনা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ড্যাশবোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু অপরিশোধিত স্বীকৃত বিল মেয়াদোর্ত্তীণ হয়েছে। তবে সব বিল-ই মেয়াদোর্ত্তীণ নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পণ্য জাহাজীকরণের বিপরীতে জাহাজীকরণের তারিখ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মূল্য ফেরতের বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের জনতা শাখার ৩৮.৭৭ মিলিয়ন ডলার ওভারডিউ এক্সপোর্ট বিল এখনও আসেনি বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায়ও স্বীকৃত বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। যাদের বিল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে তাদের এক মাসের মধ্যেই তা পরিশোদের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে আমদানি রপ্তানি বিল পরিশোধ না করা হলে ব্যাংকের প্রতি একটা অনাস্থা তৈরি হয়। ফলে রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ আন্তর্জাতিক লেনদেনে সবার ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি কম থাকায় প্রতি বছরই এ ধরনের বিলের পরিমাণ বাড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রতিবছরই এ বিল পরিশোধের জন্য নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয় কিন্তু তারপরও এ নির্দেশনা সঠিকভাবে পরিপালন করা হয় না বলে জানান তারা। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন এ বিশেষজ্ঞরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ