কঠিন হচ্ছে নতুন মোবাইল সংযোগ

Cell_phone

Cell_phoneমোবাইল ফোনের নতুন সংযোগ পাওয়া কঠিন হচ্ছে। চাইলেই আর যেখান সেখান থেকে সিম কিনে চালু করা যাবে না। গ্রাহকের দেওয়া তথ্য যাচাই করেই কেবল তা সচল করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। আর এ কাজে কোম্পানিগুলো সহায়তা নেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য ভাণ্ডারের।বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র জানিয়েছে  আগামি মার্চ মাসে  এ ব্যবস্থা শুরু হবে 

সূত্র জানিয়েছে, সরকারের পরামর্শে বিটিআরসি  নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কয়েকটি আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শর্ত সাপেক্ষে তাদের ভোটার তথ্যভান্ডার বা ডাটা-বেজ ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস অর্থসূচককে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে ইসি। আগামি মাস  (মার্চ) থেকে নতুন সংযোগ চালুর ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপারেটররা গ্রাহকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ইসির তথ্যভান্ডার ব্যবহার করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

খুব শিগগিরই এ বিষয়টি খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে বিটিআরসি, ইসি ও সব মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে ওই ডেটাবেজের মূল সার্ভার স্থাপন করা হবে। বিটিআরসি এটি মনিটরিং করবে। অপারেটররা অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করে গ্রাহকের পরিচয় ও তথ্য নিশ্চিত করে সিম চালু করার ব্যবস্থা নিতে পারবে।

তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের জন্য অপারেটরদের ফি দিতে হবে বলেও জানান বিটিআরসি প্রধান।

বিটিআরসির নির্দেশে ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর থেকে দেশে ‘প্রিঅ্যাকটিভ সিম’ (আগে থেকেই চালু) বিক্রি বন্ধ থাকার কথা। নির্দেশনায় বলা আছে,গ্রাহক পরিচয় নিশ্চিত করেই অপারেটররা সংযোগ (রিম/সিম) সচল করবে। সিম নেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি কিংবা অন্য কোনো নথি জমা দেওয়ার কথা।

অভিযোগ রয়েছে, বিটিআরসির ওই নির্দশনা মোটেও পরিপালিত হচ্ছে না। পাড়া-মহল্লার দোকানে, এমনকি ফুটপাতেও বিভিন্ন অপারেটরের সিম পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা নেওয়া হলেও অনেক দোকানেই তার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ থাকে। অনেকেই নকল জাতীয় পরিচয়পত্র বা নথি জমা দিয়ে সিম তুলে নেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা জাল কাগজপত্র বানিয়ে নেয়। এসব সংযোগ চাঁদাবাজি,হুমকি,সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ব্যবহার হলেও তা অনুসন্ধান করে অপরাধীকে চিহ্নিত করা যায় না।

ইসির ডাটাবেজ ব্যবহারের সুযোগ পেলে গ্রাহকের জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যতা যাচাই করে তার সিম সচল করতে পারবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটর। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।