কৃষির উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও জমি ব্যবহার পরিকল্পনা জরুরী
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

কৃষির উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও জমি ব্যবহার পরিকল্পনা জরুরী

CPD_2_1টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জমির ব্যবহারের পরিকল্পনা, পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে পশু পালন ও মৎস্য খামারে বিনিয়োগের পাশাপাশি খাদ্য ব্যতিত অন্যান্য শস্যও উৎপাদনের ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি (সিপিডি) আয়োজিত ‘কৃষিখাতের কাঠামোগত পরিবর্তন’ শীর্ষক আলোচনা সভায এসব কথা বলেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ওভারসিস ইন্টারন্যাশনার ডেভেলপমেন্টের (ওডিআই) রিসার্চ ফেলো স্টেফেন উইংস। অনুষ্ঠানে টেকসই কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর কথা বলেন, পরিকল্পনা আ হ ম মোস্তফা কামাম, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, বিআইডিএসের ফেলো ড. শাহাবউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. রফিকুল হক,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন ও এম এম আকাশ।

প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী এ এইচ এম মোস্তফা কামাল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বর্তমানে তিন কোটি ৮০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। দেশের শতকরা ৯০ জন মানুষ কৃষিতে জড়িত। কৃষিখাতকে শক্তিশালী করতে হলে এর কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে শষ্য উৎপাদন বেশি হচ্ছে। এই উৎপাদন ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ সালে প্রত্যেকে দারিদ্র সীমা থেকে বেরিয়ে আসবে।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক বলেন, কৃষিখাত এখনও পুরাতন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। অবকাঠামোর অবস্থা খুবই নাজুক। বাজার ব্যবস্থাও ভালো নয়। জিডিপির প্রবৃদ্বির যে হার ৬ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। তবে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের জন্য যথেষ্ট নয়। কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য সরকারী ও বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

বিআইডিএসের ফেলো ড. শাহাবউদ্দিন বলেন, টেকসই কৃষির জন্য জমি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। জমির ব্যবহার ও পানির প্রাপ্যতা সম্পর্কে পরিকল্পনা দরকার। অকৃষিখাতে কৃষি শ্রমিকরা চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও নগদ সহায়তার প্রয়োজন। পাশাপাশি মৎস্য ও পশুসম্পদ খাতকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. রফিকুল হক বলেন, কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। সরকারের ক্রয়নীতিতে ধানের পাশাপাশি আলু কেনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে কৃষকরা আলু উৎপাদন করে টাকা পাচ্ছে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আগামিতে খাদ্য নিরপাত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষিকাঠামোর উন্নয়ন ও পলিসি পর্যায়ে খাদ্য নিরপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। কৃষি অবকাঠামোর অবস্থা ভালো নয়, বাজার ব্যবস্থাও ভালো নয়। এজন্য কৃষিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন এ উপদেষ্টা।

সিপিডির সম্মানিয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন,বিগত ৩০ বছর বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় জমি কম থাকলে কৃষি খাতের উন্নয়নে তার যথার্থ সমন্বয় হয়েছে। তবে বর্তমানে কৃষি জমি কম থাকায় ও প্রতিবেশি দেশসমুহ কৃষির উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় আমাদের কৃষিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সময়ের দাবি। এজন্য পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা, প্রযু্ক্তির ব্যবহার, পশু পালন, জমির দলিলাদী ডিজিটালাইজড করা ও খাদ্য বর্হিভূত শস্য উৎপাদনেও গুরুত্ব দিতে হবে।

এইউ নয়ন

এই বিভাগের আরো সংবাদ