বই মেলায় একুশের প্রস্তুতি

বইমেলা book fair

বইমেলা book fairআগামিকাল বাঙালীর প্রতিক্ষার সেই কাঙ্খিত দিন। আর এই দিনকে সামনে রেখে নতুন করে সাজানো হয়েছে বাংলা একাডেমির আশপাশের রাস্তা। শহীদ মিনারকে কল্পনার আলপনায় মনের মত করে নানা রঙে সাজানো হয়েছে। প্রতিবারই একুশ বাংলাদেশর মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার এনে দেয়। একুশ যেন বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে ঈদ আনন্দের মত একটা দিন।

আগামিকালের মেলায় যেন কোনো রকম ভিড় ভাট্টায় সমস্যা না হয় সেজন্য বাংলা একাডেমি আগে থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমির নতুন দুটি গেট খুলে দিয়েছে। এজন্য সবাই স্বাচ্ছন্দে মেলায় প্রবেশ ও বাহির হতে পারছে।

আজ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সবাই আনন্দচিত্তে বই কিনছে। কেউ কেউ ভাবছে আগামি দিনের মেলায় খুব আনন্দ করবে। বই মেলা সবার প্রাণের মেলা। আর প্রাণের মেলায় আগামিকাল প্রাণের সঞ্চার হবে বলেই সবারই প্রত্যাশা। সবাই অমর একুশের কাছ থেকে অধিকার আদায়ে শিক্ষা ও প্রেরণা দিক্ষা নেবে।

আগামিকাল সকাল থেকে বাংলা একাডেমির মূলমঞ্চে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবিদের নিয়ে আনুষ্ঠিত হবে উন্মোক্ত স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর।

বাংলা একাডেমির মহা পরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, অমর একুশ হল বাঙালীর ভাষা ও স্বাধীনতার চেতনার মাস। কাল জাতি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে কালের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

আগামিকালের মেলায় যেন কোন প্রকার সমস্যা না হয় তার জন্য মেলায় দুটি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সুন্দরভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যাতে কোন দূর্ঘটনা না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে।

বাংলা একাডেমির উপপরিচালক এবং জনসংযোগ ও সম্বনয় বিভাগের মুর্শিদ আনোয়ার বলেন, আগামি কাল মেলায় হবে আমাদের প্রাণের মেলার বড় দিন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের শিক্ষা নিয়ে আগামি প্রজন্ম সত্য ও ন্যায়ের সাথে থাকবে বলে জানান তিনি। বই মেলা সকলের প্রাণের মেলা এর সাথে পৃথিবীর কোর মেলার তুলনা হয় না। আমাদের বই মেলায় মানুষ আসে প্রাণের টানে।

আগামিকাল মেলার কোন নতুনত্ব আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে কবিতা পাঠের আসর। এটা কালকের মেলার আলাদা দিক। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো কাল নবীন ও প্রবীনরা একমঞ্চে সমবেত হয়ে কবিতা আবৃত্তি করবে।

মেলায় কথা হয় নাট্য শিল্পী, নাট্য পরিচালক, অভিনেতা গাজী রাকায়েত বলেন, বই মেলা আমার প্রানের মেলা, আর প্রাণের টানেই চলে আসি এখানে। বই মেলায় আমরা আসবো না এটা কখনো হয় না।

তিনি আরো বলেন, মেলা প্রসারিত হয়েছে ভাল কিন্তু ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা আছে। প্রচার প্রচারনা তেমন একটা হয় নাই, মেলায় ত্রুটিপূর্ন টয়লেট ব্যবস্থা, মেলায় মানুষ অপেক্ষা টয়লেট কম।

তিনি বলেন, এবারের মেলায় আমার একটি মঞ্চনাটক “৩টি নাটক মঞ্চ” প্রকাশিত হয়েছে।

কবি, গীতিকার,সুরকার ও শিল্পী ইদ্রীস সরকার বলেন, এ বছর বই মেলায় অনেক ভাল হয়েছে। এবার মেলায় সোহরাওয়ার্দীতে হওয়ায় খোলা মেলা পরিবেশে হয়েছে। মেলার সুন্দর ভাব সব সময় থাকবে।

তিনি বলেন, এবারের মেলায় আমার একটি গানের বই বের হয়েছে ‘মাটি ও মানুষের গান’ নামে গাজী প্রকাশনীমতে। এছাড়া আমার কয়েকটি কবিতারে বই রয়েছে ‘ক্ষত বিক্ষত সুখ’ , নির্বাচিত মজার ছড়া ‘শাপলা শালুক’ , ‘তিতাস নদীর বাঁকে প্রেম’ ও ‘মহা জীবনের গানের বই’ বের হয়েছে ।

সাকি/