কারখানার মান পরিবর্তনে মজীনার তাগিদ
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

কারখানার মান পরিবর্তনে মজীনার তাগিদ

যুক্তরাষ্ট্রের রাস্ট্রদূত মজীনাপোশাক কারখানার মান পরিবর্তনে মালিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএর প্রতি তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। আন্তর্জাতিকমান ও শ্রমিক নিরাপত্তা বজায় না রাখা মালিকদের ব্যবসা ছাড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে শ্রম আইনের-২০১৩ ওপরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) স্থানীয় প্রতিনিধি শ্রীনিবাস বি. রেড্ডি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফয়জেুর রহমান, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) রিয়াজ বিন মাহমুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ড্যান মজিনা বলেন, কিছু কারখানা মালিকরা এই খাতের মান পরিবর্তনে এগিয়ে এসেছে। যারা মান পরিবর্তন না করে অধিক মুনাফা অর্জনের পথে হাটছে। তবে দূর্ঘটনা ঘটলে মুনাফা নিয়ে তারা আবার অন্যত্রে চলে যাবে। তাতে বাংলাদেশ আবারো বিশ্ববাজারে হুমকির মূখে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পোশাক কারখানার উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়ন না হলে খাতটি আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পিছিয়ে পড়বে। তাই নিয়ম ও প্রক্রিয়ার গঠনমূলক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

তাজরীন ও রানা প্লাজার শ্রমিকদের নিজ মত প্রকাশের সংগঠিত পন্থা থাকলে কারখানা মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতো। মালিকদের নির্মম লোভ শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রতি দূর্যোগ হয়ে এসেছে। তা না হলে আগুন থেকে বাঁচার জন্য তাদের ধাক্কা দিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে আসতো।

পরিবারের ভরণপোষনের ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর ভয়ে এই মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা রুখে দাঁড়াতে পারিনি বলে মনে করেন তিনি।

তবে এই দূর্ঘটনার পর দেশটির বন্ধু সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি। তারা কারখানাগুলোকে অগ্নিনির্বাপন, কারখানার কাঠামোগত উন্নয়ন, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করাসহ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে সহায়তা করছে।

তিনি কারখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে শ্রমিক নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি মনে করেন, সত্যিকারের ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি বলেন, অচিরেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের হার আরও বাড়বে। তাতে শ্রমিকদের আরও সাংগঠনিক শক্তি যোগাবে বলে মনে করেন তিনি।

সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা জিএসপি, অ্যাকশন প্লান্ট ও সাস্টেইনেবল কম্প্যাক্টের রোডম্যাপ অনুযায়ী অনেক দূর এগিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আর এ ফলে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা, কারখানাগুলোর শক্তিমত্তাসহ স্বাধীনভাবে সংগঠন করা শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি সম্মান ও পরিবর্তনকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করেন তিনি।

শ্রীনিবাস বি. রেড্ডি বলেন, এই ধরণের প্রশিক্ষণ কর্মশালা কারখানার মান উন্নয়নে আরও সহায়তা করবে। যা উপযুক্ত শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

রিয়াজ বিন মাহমুদ বলেন, এ ধরণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক ভূল বোঝাবুঝি দূর হবে। তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন শুধু শ্রমিকদের জন্য। তবে এতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চান না তিনি।

দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এসইউএম/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ