পায়রা বন্দরের জন্য আরও অর্থসহায়তা চাইলো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

kuakata_patuakhali_29789গেল বছর ১৯ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয় দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর।তবে উদ্বোধনের পরে বেশ কয়েক মাস কাটলেও নানা জটিলতায় চালু হয়নি বন্দরটির কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের মূলত যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা, জেটিতে পল্টুন না থাকাসহ আরও কয়েকটি কারণে থেমে আছে বন্দর কার্যক্রম।

এই অবস্থায় বন্দরটির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছে ৭৮ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, চাওয়া এই অর্থের মধ্যে নয় কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় হবে বন্দরের দৈনন্দিন কাজে। আর বাকি ৬৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে বন্দের নানা সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং অবকাঠামো উন্নয়নে।

উল্লেখ্য এর আগে আগামি অর্থবছরের বাজেটে বন্দরের জন্য ২১১ কোটা টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন বন্দর চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

সূত্রটি জানায়, অর্থমন্ত্রণায় যদি এই টাকা বরাদ্দ দেয় তবে বন্দরটির কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব। আর তা হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে তা ব্যপক ভূমিকা রাখতে শুরু করবে।

প্রসঙ্গত চলতি মাসের শুরুর দিকে মন্ত্রণালয় বন্দর কর্তৃপক্ষকে শিগগিরই কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেয়্ কিন্তু টাকা না থাকার অজুহাত দেখিয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায়।

ওই সময় মন্ত্রণালয় বন্দর কর্তৃপক্ষকে সেমিনার-সিম্পজিয়ামসহ নানা প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্দরটির উদ্বোধন করেন। সেসময় কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেল-সংলগ্ন ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হয় পায়রা বন্দর। এজন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ৪০ কোটি টাকায় ভূমি উন্নয়ন, একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি গুদাম ও কাস্টম বাউন্ডারি (সীমানা প্রাচীর) নির্মাণ করা হয়েছে।

বন্দরের আর্থিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য কোনো ব্যাংকের শাখা খোলা হয়নি। এছাড়া বন্দর চালানোর জন্য নেই প্রয়োজনীয় জনবল। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ দিয়ে এটি উদ্বোধন করা হয়।

গত ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৩ পাস হয়। এই আইনের আওতায় রাবনাবাদ চ্যানেলসংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড়ের টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর স্থাপনের কাজ চলছে।

দশ বছরে বন্দরের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ আনুমানিক ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠলে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে, অর্থনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সার্বিকভাবে জনগণ উপকৃত হবে। মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানিকরণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষি খাতে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি সহজতর হবে। শিল্প কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।