জিএসপি বাতিলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্লাস্টিক খাত: অর্থমন্ত্রী
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

জিএসপি বাতিলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্লাস্টিক খাত: অর্থমন্ত্রী

Finance Ministerযুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা বাতিলের কারণে দেশের প্লাস্টিক খাত সবেচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্র্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৯ম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক পণ্য মেলার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং চান চাও ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য প্লাস্টিক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। কিন্তু এ শিল্পটির ভবিষ্যত এখন হুমকির মুখে। তবে, বিগত বছরগুলোতে এ শিল্পটির অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। আমার বিশ্বাস এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।

প্লাস্টিক শিল্প বিভিন্ন সমস্যায় আছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, জিএসপি সুবিধা স্থগিতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে এ শিল্প খাতটি। সার্বিকভাবে এ বছর এ শিল্প খাতে সমস্যা একটু বেশি হয়েছে। তবে এখন সেটা কমে এসেছে। অনেক প্রণোদনা আসছে। এসবের সুফল খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদও একই সুরে জিএসপির সুবিধা না থাকায় প্লাস্টিক শিল্পের ক্ষতির কথা বলেছেন।

আকরাম উদ্দিন বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে এই শিল্প। তবে যা কিছু হোক, এই শিল্প সামনের দিনে আরও এগিয়ে যাবে এবং রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্লাস্টিক শিল্প নেতা ও বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম বলেন, জিএসপি বাতিল হওয়ায় প্লাস্টিক শিল্প বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জিএসপি স্থগিত হয়েছে পোশাক শিল্পের কারণে। কিন্তু এর ক্ষতি পোহাতে হচ্ছে আমাদের।

বিপিজিএমই এর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, প্লাস্টিক শিল্পের মাধ্যমে আমরা দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের দেশে রপ্তানি করছি। এই শিল্পটির মাধ্যমে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে শ্রমবাজারকে কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সেই রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহসহ আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা দরকার।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন দাবি জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ খাতে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিজিএমইএ যে হারে রপ্তানি পণ্যে উৎস কর দেয় একই হারে (.০৩ ভাগ) প্লাস্টিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাতে সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

এছাড়া নগদ প্রণোদনা সহায়তা, ইউপি ইস্যুর দায়িত্ব অ্যাসোসিয়েশনের উপর ন্যস্ত করা, প্লাস্টিক শিল্প ট্রেনিং সেন্টার চালু, খেলনাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, প্লাস্টিক শিল্পনগরী স্থাপন এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্লাস্টিক খাতের প্রতিনিধিদের অন্তুর্ভূক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

এইচকেবি

এই বিভাগের আরো সংবাদ