'জিএসপি শর্ত পূরণের প্রতিবেদন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পাঠানো হবে'
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

‘জিএসপি শর্ত পূরণের প্রতিবেদন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পাঠানো হবে’

CPDজিএসপি ফিরে পেতে চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যে শর্ত পূরণ করা হবে। সেই সাথে আগামি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে শর্ত পূরণের প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আর এটা সম্ভব হলে বাংলাদেশের জিএসপি ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবেনা বলে জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল রূপসী বাংলায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজনে ‘বাংলাদেশ গামেন্টস সেক্টর: আপগ্রেডেশন অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এই কথা বলেন।

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সাবেক তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. আব্দুল মইন খান, যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন গ্রুপ(ওডিআই) হেড অব প্রোগ্রাম ড. দৃক উইলিয়াম টি ফেলদি, যুক্তরাজ্যের ওয়ারিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ক্রিস্টোফার এম উডরোফ, পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রালয়ের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আজম মোহাম্মাদ, গ্লোবাল ফিনান্স ম্যাচিইউরিটিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল ট্রিবহুহাম, ইউএনআইডিও এর ড. লুডোভিকো আলকোর্টাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পোশাক খাত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রানা ও তাজরীনের পর থেকে এই শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সরকার পোশাক পল্লী স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে পোশাক খাত ৩০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন রপ্তানি করার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে শিল্পের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আব্দুল মইন খান বলেন, এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য কার্যকরি পরিকল্পনা নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। আর তা না হলে শিল্প সংশ্লিষ্টরা ভোগান্তির শিকার হবে বলে মনে করেন তিনি।

সংলাপে নিখিল ট্রিবহুহাম বলেন, বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার পাশাপাশি কিছু সমস্যা শিল্পটিকে এগিয়ে যেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন তিনি। তার মধ্যে শ্রম বাজার ইস্যু, রাজনৈতিক অস্থিরতা,জটিল ব্যাংকিং প্রক্রিয়া,বন্দরের অপর্যাপ্ততা বেশি দায়ি বলে উল্লেখ করেন।

সেই সাথে অবকাঠামোগত অপর্যাপ্ততা, অটোক্রেটিক ব্যবস্থাপনাসহ প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ি করেন তিনি।

খাতটির উৎপাদন বাড়াতে জাতীয় ভাবে সচেতনা তৈরির পক্ষে মত দেন তিনি। তাছাড়া সব পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

আজম মোহাম্মাদ বলেন, পাকিস্তানের জিএসপি প্লাস পাওয়ার জন্য সেদেশের ফ্যাশন ডিজাইন ও টেক্সটাইল খাতের অবদান তুলে ধরেন। তবে বাংলাদেশের সম্যসা থেকে উত্তোরণ হলে পোশাক খাত আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে পোশাকখাতের নতুন বাজার সুষ্টিতে চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি হলেও উৎপাদন বাড়েনি। তাই তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন বাড়াতে সরকারসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভারতে পোশাকখাতের উন্নয়নের জন্য বিশেষ ফান্ড আছে। তবে আমাদের নেই। তাই তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে শিল্পের স্বার্থে বিশেষ তহবিল তৈরির অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তরা পোশাক শিল্পের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী কৌশল হাতে নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাছাড়া বিদ্যমান সমস্যা সমাধান কল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী ভূমিকা পালনের জন্য পরামর্শ উঠে আসে। তাছাড়া শ্রমিকদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন বক্তারা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ