নিজেদের বানানো ঘরে ঠাঁই নেই জাপার
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রাজনীতি

নিজেদের বানানো ঘরে ঠাঁই নেই জাপার

জাতীয় পার্টিনানা শঙ্কা, উৎকণ্টার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা নির্বাচনে সরকারী দলকে পেছনে রেখে এগিয়ে আছে বিএনপি জোট।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও নির্বাচনের আগে তেমনই আভাস দিয়েছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি নয় এবার উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে দারুণ চমক দেখালো সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)! দলটি সংসদের প্রধান বিরোধী দল হলেও এবার উপজেলে নির্বাচনে ঘোষিত ৯৬ টি উপজেলার মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ী হতে পেরেছে।  দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তক হলেও এবারকার উপজেলা নির্বাচনে তার দলের অবস্থা হ-য-ব-র-ল। বিশ্লেষকরা বলছেন এ যেন নিজেদের বানানো ঘরে নিজেদের ঠাঁই নাই অবস্থা।

প্রথম দফা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলেও উপজেলায় ভালো ফল করেছে জামায়াত। দলটির সমর্থিত ১৩ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। এবারে ২৮ উপজেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ছিল। এর মধ্যে সিলেটের জৈন্তাপুর, রংপুরের মিঠাপুকুর, নীলফামারীর জলঢাকা, বগুড়ার শেরপুর ও সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। প্রথমে জামায়াতকে ১৪টিতে ছাড় দিলেও শেষ পর্যন্ত সাতটিতে বিএনপি স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থী দেয়। অপর দু’টিতে বিএনপি দলীয়ভাবে জামায়াতকে সমর্থন দিলেও বিদ্রোহীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আটকাতে পারেনি। ১৪ উপজেলায় বিএনপি-জামায়াত দু’দলই আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থী দেয়। এসব উপজেলার নয়টিতে জয়ী হয়েছে জামায়াত। নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির। সর্বশেষ নির্বাচনে সংসদে ৩৪ আসন পেলেও উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে এরশাদের দল।

এ কারণে জাপার মাঝে এখন ব্যাপক হতাশা। উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে জাপার মুখপাত্র ও নির্বাচন সমন্বয়কারী ববি হাজ্জাজ জানান, পার্টি উপজেলা নির্বাচনে আশানুরুপ সফলতা পায়নি। এর কারণ হিসেবে নির্বাচনী মাঠ গোছানোয় অসঙ্গতিকে দায়ী করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বুধবার ৪০ জেলার ৯৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৯৬টি উপজেলার বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত ৪৩ জন (দু’জন বিদ্রোহীসহ), আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩৪ জন (একজন বিদ্রোহীসহ), জামায়াত সমর্থিত ১৩ জন, ইউপিডিএফ দু’জন, জাতীয় পার্টি একজন জনসংহতি সমিতি সমর্থিত একজন এবং স্বতন্ত্র দু’জন  বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গোলযোগের কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এ দুটির চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।

নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ৩২ জন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৪ জন, জামায়াত সমর্থিত ২৩ জন, স্বতন্ত্র ছয়জন, জাতীয় পার্টি তিনজন এবং অন্যান্য চারজন। বাকীগুলোর ফল পাওয়া যায়নি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান  পদে বিএনপি সমর্থিত ৩৪ জন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩৪ জন, জামায়াত সমর্থিত ১০ জন, স্বতন্ত্র সাতজন, জাতীয় পার্টির একজন এবং অন্যান্য তিনজন জয়ী হয়েছেন।

জাতীয় পার্টি সূত্র জানায়, জয়ের লক্ষ্য নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে মাঠে নামার কথা ছিল দলটির। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে শেষ পর্যন্ত পিছু হটে জাতীয় পার্টি। কোনো রকম সমন্বয় ছাড়াই নির্বাচনে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রার্থীদের সঙ্গে দলের জেলা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো ধরনের সমন্বয় হয়নি।

জাতীয় পার্টির নেতারা উপজেলা নির্বাচনের ব্যর্থতার জন্য সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করলেও এটা মানতে রাজিনা  বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন পেশিশক্তি ব্যবহার করে গৃহপালিত বিরোধী দল হওয়া যায়, জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায়না।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছে দেশে বিএনপি জোট কতটা জনপ্রিয়। নির্বাচনে জাপার এই ব্যর্থতা আবারও প্রমাণ করল তারা আসন ভাগাভাগি করে প্রহসনের জাতীয় নির্বাচন করেছে এবং সংসদে বিরোধী দল হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ