রহস্যজনকভাবে মুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হলো স্বর্ণব্যবসায়ীকে
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » চট্টগ্র্রাম

রহস্যজনকভাবে মুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হলো স্বর্ণব্যবসায়ীকে

chittagongছয় দিন পর রহস্যজনকভাবে মুক্তিপণ না নিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে চট্রগ্রামের স্বর্ণব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরীকে। ১১ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় দিয়ে অপহরণকারীরা তাকে নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দেয়া এবং পুলিশ অপহরণের সন্দেহের তালিকায় র‌্যাব কিংবা পুলিশকে না রাখায় রহস্যের জন্ম দিচ্ছে জনমনে।

এদিকে মুক্ত হওয়ার পর মৃদুল চৌধুরী মহানগর হাকিম সৈয়দ মাশফিকুল ইসলামের আদালতে ভিকটিম হিসাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের জানান, অপহরণ ও ছয়দিন ধরে চলা তার ওপর নির্যাতনের কথা।

মৃদুল চৌধুরী জানান, ‘১১ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন টেলিগ্রাফ রোডের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কালো রঙ্গের একটি মাইক্রোবাসে আমাকে তুলে নেয়। আমার চোখ বেধে ফেলায়, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় তা আমি বুজতে পারিনি। ছয়দিন ধরে হাতে হাতকড়া ও মুখে মুখোশ পরিয়ে রাখা হয়। শুধুমাত্র বাথরুমে যাওয়া আর খাওয়ার সময় হাতকড়া খোলে দেওয়া হতো।’

গেল ১৪ তারিখ  শুক্রবার আমাকে বেদম পেটানো হয়। আমার হাটুতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে, ইলেকট্রিক শকও দেয়। এতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফেরার পর কেন আমাকে মারা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা বলে, আমি কেন র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তারা প্রথমে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপন চাইলেও পরে তা লাগবে না বলে জানায়। তারা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিলেও পরে জানায় তারা র‌্যাব কিংবা গোয়েন্দার কেউ নয়।

সোমবার ভোর রাতে একটি মাইক্রোবাসে করে মহাসড়কে এসে আমাকে বলে দৌড় দে। সামনে পুলিশেল গাড়ি আছে বলে আমাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেয় তারা।

হাসপাতালে মৃদুল চৌধুরীর সাথে ঘন্টাব্যাপী একান্ত আলাপ শেষে এই ঘটনায় র‌্যাব কিংবা পুলিশ জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সিএমএম আদালতে র‌্যাবের সদস্য মেজর রকিবুল আমিনসহ আরও তিনজনের  বিরুদ্ধে মৃদুল বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ৩ অক্টোবর ৮০ ভরি গলানো স্বর্ণ ট্রেনে করে এক বিশ্বস্ত কর্মচারী ও ড্রাইবার বাবুল পালকে দিয়ে ঢাকার তাঁতীবাজারে পাঠান। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে র‌্যাব-২ এর মেজর রকিবুল আমিন ও তার সোর্স বাবুলকে গাড়িতে তুলে তার কাছ থেকে ৮০ ভরি স্বর্ণ রেখে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়।

কেএফ

এই বিভাগের আরো সংবাদ