'মুখে মুখোশ, হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে চলে নির্যাতন'
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » চট্টগ্রাম ও বন্দর

‘মুখে মুখোশ, হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে চলে নির্যাতন’

Mridul_Chowdhuryচট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরীকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে গেল ১১ ফেব্রুয়ারি অপহরণ করা হয়। অপহরণকারি ব্যাবের বিরুদ্ধে কেন মামলা করাছে জানতে চেয়ে ইলেকট্রিক শকসহ বেদমভাবে পিটানো হয়। রহস্যজনকভাবে মুক্তিপণ ছাড়ায় ছয় দিন পরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। র‌্যাবের বিরুদ্ধে ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের মামলা করার পর গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে নিজ বাসা থেকে রহস্যজনকভাবে  অপহরণ হন মৃদুল চৌধুরী। এত সব রহস্যের বিষয় উন্মোচিত হওয়ার আগেই পুলিশ অপহরণের সন্দেহের তালিকায় র‌্যাব কিংবা পুলিশকে না রাখাটা আরো বেশী রহস্যের জন্ম দিচ্ছে জনমনে।

মৃদুল চৌধুরী মহানগর হাকিম সৈয়দ মাশফিকুল ইসলামের আদালতে ভিকটিম হিসাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের জানান অপহরণ ও ছয়দিন ধরে চলা তার উপর নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা।

মৃদুল চৌধুরী জানান, ১১ ফেব্রুয়ারী সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন টেলিগ্রাফ রোডের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কালো রঙ্গের একটি মাইক্রোবাসে আমাকে তুলে নেয়। তার পর আমার চোখ বেধে ফেলায় আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় তা আমি বুঝতে পারিনি। ছয়

দিন ধরে হাতে হাতকড়া ও মুখে মুখোশ পরিয়ে রাখা হয়। শুধু বাথরুমে যাওয়া আর খাওয়ার সময় হাতকড়া খোলে দেওয়া হতো।

গেল ১৪ তারিখ শুক্রবার আমাকে অন্য একটি রুমে নিয়ে বেদম পেটানো হয়। আমার হাটুর নিয়ে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে। ইলেকট্রিক শকও দেয়। এতে আমি জ্ঞান  হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফেরার পর কেন আমাকে মারা হচ্ছে জানতে চায়লে তারা বলে আমি কেন র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তারা প্রথমে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাইলেও পরে তা লাগবে না বলে জানায়। তারা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিম পরিচয় দিলেও তারা র‌্যাব কিংবা গোয়েন্দার কেউ নয় বলেও জানায় ।

সোমবার ভোর রাতে আমাকে একটি মাইক্রোবাসে করে মহাসড়কে এসে আমাকে বলে দৌড় দে সামনে পুলিশের গাড়ি আছে বলে আমাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেয় তারা।

অপহরণ হওয়ার ছয় দিন পর কুমিল্লা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃদুল চৌধুরীর সাথে ঘন্টাব্যাপী একান্ত আলাপ শেষে র‌্যাব কিংবা পুলিশ জড়িত নয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম । সোমবার উদ্ধার হওয়ার চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী হাসপাতালে  ঘন্টাব্যাপী একান্ত আলাপ শেষে একথা জানান তিনি। গেল দুদিন সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশ ও মৃদুল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ।

উল্লেখ্য, সিএমএম আদালতে র‌্যাবের সদস্য মেজর রকিবুল আমিনসহ আরো তিনজনের বিরোদ্ধে মৃদুল বাদী হয়ে মামলা করেন, এত তিনি  উল্লেখ করেন, গেল বছর ৩ অক্টোবর  ৮০ ভরি গলানো স্বর্ণ ট্রেনে করে এক বিশ্বস্ত কর্মচারী ও ড্রাইভার বাবুল পালকে দিয়ে ঢাকার তাঁতীবাজারে পাঠান। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে র‌্যাব-২ এর মেজর রকিবুল আমিন ও তার সোর্স বাবুলকে গাড়িতে তুলে তার কাছ থেকে ৮০ ভরি স্বর্ণ রেখে তাকে গাড়ি থেকে  নামিয়ে দেয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ